ঢাকা
logo
প্রকাশিত : September 30, 2026

তৃতীয় দেশে অভিবাসী বিতাড়ন: ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে তৃতীয় দেশে অভিবাসী বিতাড়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এর ফলে এ ধরনের নির্বাসনের ওপর নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল হলো।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মার্কিন শীর্ষ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদন মঞ্জুর করে এই বিতাড়ন পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন। এই প্রক্রিয়ার আওতায় অভিবাসীদের এমন সব দেশে পাঠানো হয়, যাদের সাথে তাদের কোনো সংযোগ নেই।

জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে যেমনটা সচরাচর দেখা যায়, আদালতের এই আদেশটি ছিল স্বাক্ষরবিহীন। এতে কোনো ব্যাখ্যা বা বিচারকদের ভোটাভুটির নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে আদেশের শেষে আদালতের তিন উদারপন্থি বিচারক- সোনিয়া সোটোমায়ার, কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন এবং এলেনা কাগান জানান, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদনটি খারিজ করার পক্ষে ছিলেন।

নিম্ন আদালতের রায়ের ওপর সুপ্রিম কোর্টের এই স্থগিতাদেশটি সাময়িক। আগামী ডিসেম্বরে এই বিষয়ে মূল শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের নিম্ন আদালতের বিচারক ব্রায়ান মারফি এর আগে রায় দিয়েছিলেন- তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে অভিবাসীদের তাদের নিরাপত্তার শঙ্কাগুলো তুলে ধরার একটি ‘অর্থবহ’ সুযোগ দিতে হবে। মারফি উল্লেখ করেছিলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ না দিয়েই অনেক অভিবাসীকে বিতাড়িত করা হতে পারে।

২০২৫ সালে হোয়াইট হাউজে পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প এই বিতাড়ন কার্যক্রম নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প তার নির্বাচনি প্রচারে ‘মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিতাড়ন অভিযান’ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রশাসনে পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছে, যেসব দেশের সরকার নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে রাজি নয়, সেই সব ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো এই তৃতীয় দেশে বিতাড়ন।

এর আগে ২০২৫ সালের জুনেও সুপ্রিম কোর্ট এ ধরনের বিতাড়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। ওই সময় কিউবা, মিয়ানমার এবং ভিয়েতনামের নাগরিকসহ আটজন পুরুষকে দক্ষিণ সুদানে বিতাড়ন করা হয়। অথচ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘অপরাধ, অপহরণ এবং সশস্ত্র সংঘাতের’ কারণে নাগরিকদের দক্ষিণ সুদান ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে থাকে। সেসময় মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এই এই পদক্ষেপকে ‘বিজয়’ বললেও অধিকার গোষ্ঠীগুলো একে মৌলিক আইনি সুরক্ষার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে।

মানবাধিকার সংগঠন ও সমালোচকদের আশঙ্কা, তৃতীয় দেশ হিসেবে যেসব সরকার এই বিতাড়িতদের গ্রহণ করছে, তাদের অনেকেরই মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড রয়েছে। আদালতের সুরক্ষামূলক আদেশ এড়িয়ে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাঠাতেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

বেসরকারি সংস্থা রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ফাস্টের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫টি দেশ মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করেছে এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষ তৃতীয় দেশে বিতাড়নের শিকার হয়েছেন।

এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মার্কিন সরকারের কাছে এই বিতাড়ন অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। তারা সতর্ক করে বলেন, এর ফলে শিশু, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, এলজিবিটি সম্প্রদায় এবং আশ্রয়প্রার্থীরা নির্যাতন ও অপব্যবহারের ঝুঁকিতে পড়ছেন। এর মধ্যেই মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বুরুন্ডি নতুন করে অভিবাসী গ্রহণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram