

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘হুমকি-ধামকি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে রোধ করা যাবে না। শেখ হাসিনার যে ফাঁসির রায় হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ সেই রায় কার্যকর করতে চায়। যে পরিমাণ খুন-গুম করেও কোনো অনুশোচনা নেই, তাকে দেশের মানুষ ছেড়ে দেবে না।’
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্রই যেন এই দেশে করতে না পারে। আমরা যদি সজাগ থাকি, ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না।’
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে এ খাতের উৎপাদন বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিজ পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এজন্য খামারিদের উৎপাদনমুখী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। আমরাই প্রথম ডিম রপ্তানি শুরু করেছি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
মানিকগঞ্জে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাল খননের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করেছেন। তাদেরই যোগ্য উত্তরসূরি আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে কাজ করে। তাঁর ভাষায়, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়। বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক পরিবারগুলো ভবিষ্যতে খামারি হিসেবে গড়ে উঠবে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার খুন-গুম করেছে। শিশু-বাচ্চাদের পর্যন্ত হত্যা করেছে। সেই সরকার জালেম, জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিতাড়িত করেছে।’
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দিন কবীর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজামান খান, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি খামারিদের মাঝে গবাদিপশু বিতরণ করেন।
