

মোঃ এনামুল হক, মোংলা প্রতিনিধি: ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোংলায় বাড়ী বাড়ী গিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। ব্র্যাকের ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রামের 'রেইন ফর লাইফ প্রকল্প'র আওতায় প্রায় ১২ হাজার পরিবারের কাছে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সুপেয় পানির অভাব আছে, সেখানে পরিবারগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে পাত্রে বা ট্যাংকে পানি জমিয়ে রাখতে হয়। মোংলায় লবণাক্ততার কারণে পরিবারগুলো খাবার পানির জন্য অনেকটাই বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। জমানো এই পানি ঠিকভাবে ঢেকে ও পরিষ্কার করে রাখা না হলে সেটি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। তাই ব্র্যাকের এই প্রকল্পের মাঠকর্মীরা স্থানীয় পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। তাঁরা ডেঙ্গুর ঝুঁকি, মশার প্রজননস্থল চেনার উপায় এবং প্রতিরোধে করণীয় বুঝিয়ে দিচ্ছেন। প্রতিটি বাড়ীতে সহজ ভাষার একটি বার্তা সংবলিত স্টিকারও দেওয়া হচ্ছে। স্টিকারটি ঘরের চোখে পড়ার মতো জায়গায় লাগানো হচ্ছে। যাতে পরিবারের সবাই, বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা এ বার্তাগুলো প্রতিদিন দেখতে পায়।
স্টিকারের শীর্ষে বড় অক্ষরে লেখা আছে "আপনার সচেতনতা বাঁচাতে পারে একটি জীবন" এবং "জমে থাকা পানি ডেঙ্গুর ঠিকানা"। আর চারটি মূল বার্তা হলো জমে থাকা পানি নিয়মিত ফেলে দিন, পানির পাত্র ঢেকে রাখুন, মশার কামড় এড়াতে মশারি ব্যবহার করুন, জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

স্টিকারের শেষে আহ্বান হিসেবে লেখা আছে "সচেতন হন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করুন"। প্রতিটি বার্তার পাশে সহজ ছবি দেওয়া আছে, যাতে যাঁরা পড়তে পারেন না, তাঁরাও বার্তাগুলো বুঝতে পারেন।
রেইন ফর লাইফ প্রকল্পের একটি মূল কাজ হলো পারিবারিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা। প্রকল্পটি নিরাপদ পানি ব্যবহারের স্বাস্থ্যবিধিও প্রচার করছে। জমানো পানি ঢেকে রাখা ও নিয়মিত পরিষ্কার করা এই ব্যবস্থা ব্যবহারের নিয়মেরই অংশ। তাই ডেঙ্গু সচেতনতা কার্যক্রমটি প্রকল্পের পানি ও স্বাস্থ্যবিধির বার্তাকে আরও জোরদার করছে। এতে সংরক্ষিত পানি একই সঙ্গে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে।
ব্র্যাকের এরিয়া ম্যানেজার তৃপ্তি সরদার বলেন, "মোংলায় পরিবারগুলোর কাছে বৃষ্টির পানি জীবনরেখা। তবে সেই পানি ঠিকভাবে ঢেকে ও পরিষ্কার করে রাখা না হলে তা ডেঙ্গুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আমরা শুধু পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেই থেমে থাকছি না, পরিবারগুলোকে সেই পানি নিরাপদ রাখতেও সচেতন করছি। স্থানীয় তরুণ ও কমিউনিটির সদস্যরা এই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এতে আমরা আশাবাদী যে এই সচেতনতা দীর্ঘমেয়াদে এলাকায় টিকে থাকবে।"

এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সামনের সারিতে আছে ক্লাইমেট অ্যাকশন গ্রুপ। এগুলো জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিয়ে গঠিত ওয়ার্ডভিত্তিক জনসংগঠন, যারা স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গঠিত ইয়ুথ গ্রুপের সদস্যরা উপজেলা জুড়ে বাড়ি বাড়ি যোগাযোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কার্যক্রমটি ওয়ার্ডভিত্তিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রতিবেদন আকারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য দুটি হলো পরিবারগুলোর মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং মশার প্রজননস্থল কমানো। জ্বর হলে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার প্রবণতা বাড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে। উদ্যোগটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো স্থানীয় তরুণ ও কমিউনিটি নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধি। এর ফলে প্রকল্পের সহায়তা শেষ হওয়ার পরও এলাকায় সচেতনতামূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে।
