

মো: নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র চট্টগ্রাম। সমুদ্র, পাহাড়, ঝর্ণা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, ফয়েজ লেক, সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়, গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, বাঁশখালীসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ টুরিস্ট পুলিশ।
টুরিস্ট পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, বরং পর্যটকদের তথ্যসেবা, জরুরি সহায়তা, হারিয়ে যাওয়া শিশু বা স্বজনকে খুঁজে দিতে সহযোগিতা, নারী ও বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতারণা বা হয়রানির অভিযোগে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণেও সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে ঈদ, পূজা, নববর্ষ ও দীর্ঘ সরকারি ছুটিতে পর্যটকদের চাপ বাড়লে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়।
চট্টগ্রাম টুরিস্ট পুলিশের সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, "পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পর্যটন এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। কোনো পর্যটক সমস্যায় পড়লে দ্রুত সহায়তা দিতে আমাদের সদস্যরা সবসময় প্রস্তুত থাকেন।"
তিনি আরও বলেন, "পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত। তাই নিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যটকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও সেবার মান উন্নয়নের ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য—পর্যটকরা যেন চট্টগ্রাম থেকে সুন্দর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে পারেন।"
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, "আগের তুলনায় এখন নিরাপত্তা অনেক বেশি চোখে পড়ে। টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন। এতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে অনেক স্বস্তি লাগে।"

রাজশাহী থেকে সীতাকুণ্ড ভ্রমণে আসা নুসরাত জাহান বলেন, "একটি জায়গার সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিরাপত্তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। টুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে চাইলেও তারা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন।"
খুলনা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, "চট্টগ্রামের পর্যটন স্পটগুলো অনেক সুন্দর। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ায় এখন ভ্রমণ অনেক বেশি উপভোগ্য মনে হচ্ছে।"
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। এতে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টুরিস্ট পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পর্যটক সহায়তা বুথ সম্প্রসারণ, বহুভাষায় দক্ষ সদস্য নিয়োগ এবং ডিজিটাল সেবা আরও জোরদার করা গেলে চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্প নতুন মাত্রা পাবে।
পর্যটন শুধু ভ্রমণ নয়, এটি দেশের অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। সেই সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে টুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
