

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার: টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ ও উত্তাল সাগরের প্রভাবে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের বুকিং বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, মাত্র চার দিনেই এ খাতে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে পুরো সৈকতজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যটকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যারা সৈকতে এসেছেন, তারাও বৃষ্টির কারণে অল্প সময় অবস্থান করে দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। সৈকতের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকা কয়েকটি দোকানেও নেই ক্রেতার আনাগোনা।
ঝালমুড়ি, চটপটি, বিচ বাইক, চেয়ার-ছাতা (স্থানীয়ভাবে ‘কিটকট’ নামে পরিচিত), ঘোড়ায় চড়াসহ প্রায় সব ধরনের পর্যটননির্ভর ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে। সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, “টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে বাস যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। গত চার দিনে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তাদের অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছেন।”
বিচ বাইক চালক আলমগীর হিরো বলেন, “সমুদ্রসৈকতে বিচ বাইক চালিয়েই আমার সংসার চলে। কিন্তু ভারী বৃষ্টি ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেতের কারণে পর্যটক নেই বললেই চলে। চার দিন পর সৈকতে এলেও আজ কোনো আয় হয়নি।”
কিটকট ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, “কিছু পর্যটক এলেও টানা বৃষ্টির কারণে বেশিক্ষণ থাকছেন না। ফলে সারাদিন চেয়ার-ছাতাগুলো প্রায় ফাঁকাই পড়ে থাকছে। ব্যবসা একেবারে বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা।”
পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে এই মন্দা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর বলেন, “টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন শিল্পে। প্রাথমিক হিসাবে গত চার দিনেই প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
