

তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চল। আগুনের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুষ্ক আবহাওয়া, প্রচণ্ড গরম ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
ফরাসি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের পিরেনিজ-ওরিয়ঁতাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়া দাবানল ইতিমধ্যে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীর বিপুল সদস্য, বিশেষায়িত যানবাহন এবং আকাশপথে পানি নিক্ষেপকারী বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনের বিস্তার ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অনেক পরিবারকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। দাবানল মোকাবেলায় দিন-রাত কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় কয়েকজন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।
কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের শুষ্কতা ও অতিরিক্ত গরমের কারণে বনাঞ্চলগুলোতে অগ্নিঝুঁকি আরো বেড়েছে।
চরম গরমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটক, কৃষক এবং খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমজীবীরা। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং অসুস্থদের বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। নাগরিকদের পর্যাপ্ত পানি পান করা, দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ‘ট্যুর দ্য ফ্রান্সে’। আগুনের ঝুঁকির কারণে নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে এবং সীমিত করা হয়েছে দর্শকদের উপস্থিতি।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি, বরফ এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে প্রতিযোগিতার কিছু অংশ পরিবর্তনের বিষয়েও প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
ফরাসি পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেড়েছে। এর সঙ্গে বাড়ছে দাবানলের ঝুঁকিও। দীর্ঘস্থায়ী খরা, উচ্চ তাপমাত্রা এবং শুষ্ক উদ্ভিদ আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণগুলোর একটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রান্সের এবারের দাবানল শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ। এর প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্য, পর্যটন, অর্থনীতি এবং বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের ওপর।
দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালীন দাবানল এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ফরাসি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট আরো ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।
