

মো. এমরান হোসেন, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলাকে বিভক্ত করে ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় প্রধানমন্ত্রী নতুন এ উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।
কিন্তু নতুন এ উপজেলা ঘোষণার পরপরই সদর দপ্তরের অবস্থানকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন ও ভুজপুর ইউনিয়নবাসী স্বাগত জানালেও বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও সুয়াবিলবাসী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বুধবার বিকেলে যৌক্তিক স্থানে উপজেলা স্থাপনের দাবীতে নারায়ণহাটের হেঁয়াকো-গহিরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ২ ঘন্টা অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এসময় সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
ফটিকছড়ির প্রবীণ বিএনপি নেতা, ভূজপুরের বাসিন্দা আহমেদ হোসেন তালুকদার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা অনুমোদন দেয়ায় আমরা খুবই খুশি। এ অঞ্চলে আলাদা বরাদ্দ পাবে, এলাকার উন্নয়ন হবে।
ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিফন বলেন, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা অনুমোদন হওয়ায় এলাকাবাসী অনেক খুঁশি।
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, 'ভূজপুরের আশপাশের বাসিন্দাদের এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর হতে পারে না। এবার উপজেলা গঠনের মধ্য দিয়ে এলাকার তৃণমূলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং সরকারের সেবাপ্রাপ্তিও সহজ হবে।'
নারায়নহাটের বাসিন্দা ও সরকারের সাবেক এক সচিব মেজবাহ উদ্দিন বলেন, 'সুয়াবিল ও উত্তরের ৩ ইউনিয়ন ভূজপুরে উপজেলা হলে তাদের কোনো কাজে আসবে না; বিধায় নতুন উপজেলার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আন্দোলন ও যুগপৎ আইনি কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। আমরা ব্যক্তিস্বার্থের উপজেলা চাই না।'
সুয়াবিলের বাসিন্ধা হালদার গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া অসন্তোষ প্রকাশ করে তাঁর ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন 'দুঃখিত সুয়বিলবাসী, অপরাজনীতি ও টাকার কাছে সুয়াবিলের জনগনের নৈতিক দাবির অপমৃত্যু ঘটেছে'।
জানা গেছে, ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সঙ্গে বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন যাবৎ মানববন্ধন ও সভা, সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে। তাছাড়া ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার আরো তিনটি ইউনিয়ন যথাক্রমে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাটবাসী দীর্ঘ মানববন্ধ, সমাবেশের মাধ্যমে দাবি জানিয়েছিল "উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা" বাস্তবায়ন এবং সদর দপ্তর নারায়ণহাট–দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপন হোক।
এদিকে সচেতন মহল মনে করেন, নতুন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের ফলে প্রশাসনিক, ভূমি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি সেবা আরও সহজে দ্রুত পাবে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
