ঢাকা
১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিকাল ৩:৩১
logo
প্রকাশিত : জুলাই ১, ২০২৬

তেহরানের অস্বীকার মূলত ‘পারস্যের চাতুরি’: জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, চলমান আলোচনা নিয়ে ইরানের প্রকাশ্যে অস্বীকার করাটা আসলে তাদের একটি সুপরিকল্পিত ‘পারস্যের আলোচনার কৌশল’। একইসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত ‘দ্য মাইকেল নোলস শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, “পূর্বে হওয়া আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই মূলত কিছু নির্দিষ্ট ও কারিগরি বিষয়ে আলোচনার কথা ছিল। সেগুলো নিশ্চিতভাবেই বুধবার (১ জুলাই) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তেহরানের দ্বিমুখী অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তারা একদিকে বলছে কোনো শান্তি আলোচনা চলছে না, আবার অন্যদিকে শান্তি চুক্তি নিয়ে কারিগরি আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করছে। এটি মূলত তাদের এক ধরনের বাগাড়ম্বরপূর্ণ চাতুরি।”

ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের এই চুক্তির বিষয়ে সমালোচনার জবাবে ভ্যান্স ট্রাম্পের রণকৌশল সমর্থন করে বলেন, “প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারে তাঁর ইচ্ছার প্রমাণ দিয়েছেন, তবে তা কেবল সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্যই।

সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে ভ্যান্স বেলন, “তাদের মনোভাব হলো শুধু বোমা ফেলা আর বোমা ফেলা, কিন্তু এর শেষ কোথায় তা তারা স্পষ্ট করে বলতে পারে না। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমি বোমা ফেলতে রাজি আছি’, এবং তিনি স্পষ্টভাবেই দেখিয়েছেন যে তিনি বোমা ফেলতে পারেন, তবে তা কেবল তখনই হবে যখন সেটি কোনো লক্ষ্য পূরণ করবে।”

ফক্স নিউজকে দেওয়া আলাদা একটি সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের কথার চেয়ে তাদের কাজের ওপর বেশি ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে জানান, আলোচনায় অর্থবহ অগ্রগতির জন্য তেহরানকে ‘প্রকৃত ছাড়’ দিতে হবে।

ভ্যান্স বলেন, “ইরানিরা কী বলছে তা নিয়ে আমরা খুব একটা ভাবি না। আমরা বেশি গুরুত্ব দিই তারা কী করছে তার ওপর। আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখছি, আবার কিছু নেতিবাচক লক্ষণও দেখছি। প্রেসিডেন্ট আমাদের যা বলেছেন তা হলো- সমস্যাটি নিয়ে কাজ করো, আলোচনা কোন দিকে যায় তা দেখো; আর যদি কূটনৈতিকভাবে এর কোনো সফল সমাধান না আসে, তাহলেও আমাদের হাতে অনেক বিকল্প পথ খোলা আছে।”

হোয়াইট হাউজের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার দোহার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এর ঠিক আগের দিন (সোমবার) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরান কাতারের রাজধানীতে একটি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে।

তবে ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো নির্ধারিত বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছে, যদিও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা স্বীকার করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “বুধবার (১ জুলাই) দোহায় যা করা হবে তা হলো সমঝোতা স্মারকের ধারাগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা, যার মধ্যে কাতারের কাছে থাকা ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

এদিকে, উর্ধ্বতন একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উইটকফ এবং কুশনার মঙ্গলবার দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল-থানি এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন, যাতে এই চুক্তি নিয়ে আঞ্চলিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারকটি গত ১৮ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই চুক্তিটি গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার অমীমাংসিত সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের একটি রূপরেখা তৈরি করে। এর মধ্যে রয়েছে- যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত ফাইল, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরিভাবে পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram