

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পেরিজাদ জোরাবিয়ান। একসময় অমিতাভ বচ্চনের মতো তারকাদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে দর্শকদের নজর কাড়েন। তার অভিনীত সিনেমা দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার দাঁড়ালেও তা ছেড়ে দেন। এখন রীতিমতো বড় একজন ব্যবসায়ী।
পেরিজাদ জোরাবিয়ান কে?
সত্তরের দশকের শুরুতে মুম্বাইয়ের ইরানি জোরোঅ্যাস্ট্রিয়ান বা জরথুস্ত্রী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পেরিজাদ জোরাবিয়ান। ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। বাবার মতো উদ্যোক্তা হতে চেয়েছিলেন। ভারতে পড়াশোনা শেষ করে এমবিএ ডিগ্রি নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে পাড়ি জমান পেরিজাদ। পরে সেখানকার লি স্ট্র্যাসবার্গ থিয়েটার এবং ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে অভিনয়ে প্রশিক্ষণও নেন।
২০০১ সালে ‘বলিউড কলিং’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন পেরিজাদ। পরবর্তীতে ‘জগার্স পার্ক’, ‘মর্নিং রাগা’, ‘মুম্বাই ম্যাটিনি’, ‘এক আজনবী’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। ‘এক আজনবী’ সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয় করেন এই অভিনেত্রী।
বলিউডে কীভাবে পা রাখলেন?
অভিনয় কখনো পেরিজাদের মূল লক্ষ্য ছিল না। ভারতে ফিরে পারিবারিক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান জোরাবিয়ান চিকেনে কাজ শুরু করেন। কিন্তু পারিবারিক একটি অনুষ্ঠান তার ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কারণ সেখানে একজন মডেলিং সমন্বয়কারীর নজরে পড়েন তিনি। এরপর ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী’-এর একটি বিজ্ঞাপনে কাজের সুযোগ পান। পরে পরিচালক নাগেশ কুকুনুর তাকে ‘বলিউড কলিং’ সিনেমায় ওম পুরির বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ দেন। এটি মুক্তির পর পেরজাদ পরিচিতি লাভ করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেতে থাকেন এই অভিনেত্রী।
কেন বলিউড ছাড়লেন?
২০০৬ সালে ব্যবসায়ী বোমান ইরানিকে বিয়ে করেন পেরিজাদ। বিয়ের পর তার জীবনের অগ্রাধিকার বদলে যায়। পরিবার, মাতৃত্ব এবং স্থিতিশীল জীবনকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। এ কারণে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’ সিনেমার কাজ ছেড়ে দেন। এতে অনিল কাপুরের বিপরীতে তার অভিনয়ের কথা ছিল। কেবল তাই নয়, ‘সালাম-ই-ইশক’-এর মতো সিনেমার প্রস্তাবও ফেরান। তারপর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগত থেকে সরে পারিবারিক ব্যবসায় মনোযোগ দেন পেরিজাদ।
পেরিজাদ এখন কী করছেন?
পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জোরাবিয়ান চিকেন যখন কঠিন সময় পার করছিল, তখন পেরিজাদ আবার ব্যবসার হাল ধরেন। ব্র্যান্ডিং উন্নয়ন, খুচরা বাজার সম্প্রসারণ এবং রেডি-টু-কুক পণ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। বর্তমানে জোরাবিয়ান চিকেনে প্রায় ৭০০ জন কর্মী কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১২০ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫৬ কোটি টাকার বেশি) বলে জানা যায়।
*সিয়াসাত ডটকম অবলম্বনে
