

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ার সীমান্তবর্তী পালংখালী ইউনিয়নে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা ২৪ বস্তা সার উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় এলাকায় চোরাচালান বিরোধী জনসচেতনতা কার্যক্রমের প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাতে পালংখালী ইউনিয়নের ভাদিতলি এলাকায় কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী সন্দেহজনকভাবে রাখা ১০ বস্তা সার দেখতে পেয়ে বিষয়টি পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা ও সদস্য সচিব নুরুল আমিন মেম্বারকে জানান। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সার গুলো নিজেদের হেফাজতে নেন এবং বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
রোববার (২১ জুন) সকালে ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকায় আরও ১৪ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় উদ্ধার করা এসব সারও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মোট ২৪ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়।
পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা বলেন, “অবৈধভাবে মিয়ানমারে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত কেউ আমার দলের হলেও তাকে কোনো ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব নুরুল আমিন মেম্বার বলেন, “সার পাচার রোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মাইকিং ও বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের সহযোগিতায় উদ্ধার হওয়া ২৪ বস্তা সার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত এলাকায় সারসহ বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে অবৈধ পাচার কার্যক্রম অনেকাংশে কমে আসবে।
উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, “স্থানীয়দের সহযোগিতায় ২৪ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
