

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা: নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার, যাত্রীসেবার উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নে নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাজী মোস্তাক মিয়ার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সামাজিক সংগঠন নাগরিক অধিকার ফোরাম, কুমিল্লা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপি জমা দেন। এ সময় নাগরিক অধিকার ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল লতিফ ও সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরানের নেতৃত্বে সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের মধ্যে ছিলেন সহ সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আবদুল হান্নান, নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আহমেদ লাভলু, মীর মোহাম্মদ সোহেল, সদস্য শাহানা হক, শেফায়েত উল্লাহ প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটি উল্লেখ করে, একটি মানবিক, নিরাপদ ও নাগরিকবান্ধব সমাজ গঠনে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন জরুরি। একই সঙ্গে কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের স্বার্থে পর্যাপ্ত ও নিরাপদ খেলার মাঠ নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া জেলা পরিষদ নির্মিত বিভিন্ন যাত্রীছাউনীর বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরে সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের সুবিধার্থে নতুন যাত্রীছাউনী নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
টেকসই উন্নয়ন প্রসঙ্গে নাগরিক অধিকার ফোরাম জানায়, উন্নয়ন পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের জন্য নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিয়মিত মতবিনিময় সভা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত প্রস্তাবনাগুলোর প্রতি সদয় দৃষ্টি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধিতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে গৃহীত যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় জেলা পরিষদের সঙ্গে থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নাগরিক অধিকার ফোরাম।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাজী মোস্তাক মিয়া বলেন, নাগরিক অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নে নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে জেলা পরিষদ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। স্মারকলিপিতে উল্লিখিত প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। জনগণের কল্যাণ ও জেলার সার্বিক উন্নয়নে জেলা পরিষদ সবসময় নাগরিক সমাজের গঠনমূলক পরামর্শকে স্বাগত জানায়।
