

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ও সুরমা ইউনিয়নের সংযোগকারী একমাত্র কাঁচা সড়কটি এখন দুই ইউনিয়নবাসীর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্ষায় হাঁটু সমান কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে এই পথে চলাচলকারী প্রায় ২৫টি গ্রামের হাজারো মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। জনদুর্ভোগ চরম আকারে পৌঁছালেও দীর্ঘ দিনেও সড়কটি পাকাকরণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রসরাই মাদ্রাসা থেকে সুরমা ইউনিয়নের নূরপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই কাঁচা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে কাদা জমে যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চালকদের নিজ উদ্যোগে কাদা সরিয়ে পথ তৈরি করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই অবস্থা চললেও জনপ্রতিনিধিদের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।
সড়কটির বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আলীপুর সোনালীনুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে ছাত্রছাত্রীরা। রসরাই দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা তাহুরা আক্তার জানান, বর্ষাকালে হেঁটে চলাই যেখানে দুষ্কর, সেখানে রোগী বা জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে মিশ্র বক্তব্য। লক্ষ্মীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক জহিরুল ইসলাম তার আওতাধীন অংশে সংস্কার কাজ করানোর আশ্বাস দিলেও সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সড়কটির মালিকানা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। দোয়ারাবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, সড়কটি এলজিইডি নাকি পাউবোর অধীনে তা নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বর্তমান মৌসুমে সংস্কারের সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, 'বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হলাম। খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, রশি টানাটানি বন্ধ করে দ্রুত এই ৫ কিলোমিটার সড়কটি পাকাকরণের মাধ্যমে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করা হোক।
