ঢাকা
৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
দুপুর ১:১৪
logo
প্রকাশিত : এপ্রিল ৩০, ২০২৬

রিজওয়ানা সাংঘাতিকভাবে করাপ্ট: মোহসিন রশীদ

বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ বলেছেন, গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রেকাশিত সংবাদের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে এখন যেভাবে দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে তিনি অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত একজন মহিলা—সাংঘাতিকভাবে করাপ্ট। আমি জানি না, তার মতো আর কোনো এতটা দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলা বাংলাদেশে আছে কি না। এমনকি শেখ হাসিনাও তার ধারেকাছে আসবেন না—এতটাই খারাপ বলে মনে হচ্ছে।

সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল মানচিত্রের নিয়মিত আয়োজনে এ কথা বলেন তিনি।

অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ বলেন, ‘একটি জাতীয় দৈনিক এর ফ্রন্ট পেজে তার সম্পর্কে যে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, তা আমাকে অবাক করেছে। তিনি এতটা খারাপ— এটা আগে বুঝতে পারিনি। বিশেষ করে, তিনি লাউডস্পিকারের মাধ্যমে পুলিশকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা দেখে তার আচরণের একটি ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায়।

‘এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার।

রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি। পাসপোর্টে তার নাম থাকে এবং বিদেশে গেলে তাকে যথাযথ সম্মান ও নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ থাকে। সংসদে পাস হওয়া বিল, বাজেট, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ বা বদলি—এসব ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ।

’‘কিন্তু এই মহিলা ব্রাসেলসে গিয়ে আমাদের এম্বাসি বা কনস্যুলেটে থাকা রাষ্ট্রপতির ছবি নামানোর নির্দেশ দেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক নির্দেশ— ফরেন মিনিস্ট্রির কোনো অনুমোদন ছাড়াই। তিনি নিজে ফোন করে সব এম্বাসি থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামানোর নির্দেশ দেন। অথচ এই ধরনের কাজ করতে হলে আইনি প্রক্রিয়া, নোটিফিকেশন বা নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা প্রয়োজন। কিন্তু তিনি কোনো নিয়ম না মেনে রাতারাতি ফোনে এই কাজগুলো করিয়েছেন।

মোহসিন রশীদ বলেন, ‘রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি নসরুল হামিদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং তার স্বামী এলএনজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব বিষয় তার আচরণকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করে। অনেকে মনে করেন শেখ হাসিনা নানা চুক্তির মাধ্যমে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, কিন্তু আমার মতে, রিজওয়ানার মতো এতটা চরিত্রহীন বা দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলা বাংলাদেশে আর নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন আসি ট্রাস্টি বোর্ডের বিষয়ে। একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হয় নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিধিবিধান থাকে। সেই নিয়ম অনুসারেই বোর্ড পরিচালিত ও পরিবর্তিত হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—কিভাবে একটি গঠিত ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে নতুন বোর্ড গঠন করা হলো, এবং সেই বোর্ডে উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় নিজেই সদস্য হয়ে গেলেন?’

‘আইন অনুযায়ী, ট্রাস্ট গঠনের সময়ই নির্ধারিত থাকে কিভাবে ট্রাস্টি পরিবর্তন করা যাবে। কিন্তু তথাকথিত ইন্টারিম সরকারের সময়ে এসব নিয়ম মানা হয়নি। সেই সরকার নিজেই ছিল অসাংবিধানিক ও অবৈধ। তাদের প্রধান ইউনূসও একইভাবে অবৈধভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন এবং বিভিন্ন বেআইনি কাজ করেছেন—যেমন ট্যাক্স মওকুফ, মামলা প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ইত্যাদি।’

এই পরিস্থিতিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। গণস্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদালতে যেতে হবে এবং এসব অনিয়ম তুলে ধরতে হবে। যেহেতু সেই সময় কার্যত কোনো আইনি কাঠামো মানা হয়নি, তাই এখন বিচারিক তদন্ত প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছি, যেখানে পুরো সরকারের বিরুদ্ধে একটি কমিশন অব ইনকোয়ারি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এই রিটের শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে—সম্ভবত কাল বা রবিবারের মধ্যে।’

‘এই দেশে এত অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতি আর কোনো সরকার করেনি। ব্যাংক লুটপাট হয়েছে—এটা সত্য, কিন্তু এভাবে সর্বব্যাপী দুর্নীতি আগে দেখা যায়নি। এখন দেখার বিষয়, হাইকোর্ট এই বিষয়ে কোনো রুল জারি করে কি না এবং কমিশন গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেয় কি না। আমি শিগগিরই শুনানির জন্য আবেদন করব। ইতিমধ্যে রিট পিটিশন জমা দেওয়া হয়েছে, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এর নম্বর পাওয়া যাবে।’

সুত্র: কালের কণ্ঠ

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram