

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কয়েকদিনের ঘন ও ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান। গত কয়েকদিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণের ফলে বোরো মৌসুমের সকল প্রজাতির পাকা, অর্ধপাকা ও কাঁচা ধান পানিতে পড়ে গেছে। ভাল ফলন দেখে আশায় বুক বাধা কৃষকের স্বপ্ন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার ১২ হাজার বোরো চাষী।
কৃষকরা জানান, গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে ধানী জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাকা ধান বৃষ্টির মধ্যে পানি থেকে কেটে নিলেও অর্ধপাকা এবং কাঁচা ধানা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। কাঁচা এবং আধাপাকা ধান পানিতে লুটিয়ে পড়ায় দিশে হারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি বিলে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে নিচু জমির ধান প্রায় তলিয়ে গেছে। অপেক্ষাকৃত উচু জমিতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার পাত্রখাতা এলাকার কৃষক লিয়াতক আলী জানান, ঘন বৃষ্টি আর হাল্কা বাতাসের প্রভাবে তার প্রায় ১ বিঘা জমির কাঁচা ধান পানিতে পড়ে গেছে। এই ধান কাটলে ঘরে কোন ফসল আসবে না, আবার না কেটে নিলেও পানিতে পচে যাবে, উভয় সংকটের কথা বলেন তিনি।
সবুজপাড়া এলাকার ইয়াকুব আলীর ১৪ কাটা জমির ধান পুরোটাই পানিতে নেতিয়ে পড়েছে। একই এলাকার আলম মিয়ার ২৪ শতাংশ জমির ধান নেতিয়ে পড়ার কথা জানান তিনি। বোরো মৌসুমের ধানের আবাদ ভাল হওয়ায় আশায় বুক বেধেছিলেন, কৃষক হাসেন আলী, নুর নবী, আমজাদ হোসেন, আনছের আলীসহ অনেকে। কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর মৃদু বাতাসে জমির কাঁচা ধান পানিতে পড়ে যাওয়ায় হতাশ তারা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কনক চন্দ্র জানান, উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধান রোপন করেন প্রায় ১২ হাজার বোরো চাষী। সম্প্রতি ঘন ও ভারী বর্ষণের ফলে অধিকাংশ জমির ধান জমিতে পড়ে গেছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের ধানের ৮০ শতাংশ পাকা হলে কেটে নেয়া, জমির পানি বের করে দেয়ার ব্যবস্থা করা, কয়েকটি করে ধানের গোছা বেধে দাড় করিয়ে দেয়াসহ নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

