

রমজান আলী, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের বিপরীতে এখানে দন্ত চিকিৎসা কার্যক্রম কোনোভাবে চালানো হচ্ছে মাত্র একজন ডেন্টাল সার্জনের মাধ্যমে। অন্যদিকে, চক্ষু চিকিৎসা সেবার অবস্থা আরও করুণ—এখানে কোনো চক্ষু বিশেষজ্ঞ (আই স্পেশালিস্ট) নেই।
ফলে ছানি, গ্লুকোমা, চোখের সংক্রমণ কিংবা দৃষ্টিশক্তি সমস্যার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সাধারণ চিকিৎসকরা সীমিত পরিসরে প্রাথমিক সেবা দিলেও জটিল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য রোগীদের বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম শহর কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—উভয় দিক থেকেই বাড়ছে ভোগান্তি।
এদিকে, ডেন্টাল বিভাগেও মাত্র একজন চিকিৎসক থাকায় প্রতিদিনই রোগীদের দীর্ঘ লাইন, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা এবং সীমিত সেবার বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন বা বাইরে গিয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকা চরম অবহেলার শামিল। বিশেষ করে চোখের চিকিৎসক না থাকায় বয়স্ক, শিশু এবং নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত ডেন্টাল ও চক্ষু বিভাগে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং সেবার পরিধি বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বর্তমানে একজন দন্ত চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। ডেন্টাল ও চক্ষু বিভাগের জন্য দুইজন করে চিকিৎসক চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুতই সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন চিকিৎসক যোগদান করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

