

বাংলাদেশে আমদানিনির্ভরতার কারণে সোনার বাজারে প্রায়ই দামের ওঠানামা দেখা যায়। সর্বশেষ ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পর্যন্ত এই নতুন দরই কার্যকর রয়েছে, ফলে ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে সোনা কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
বাজুস নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায়।
এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল সকালে বাজুস সোনার দাম সমন্বয় করে। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। তখন ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৫৬ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে এবং ২৪ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস পেয়েছিল।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের নতুন প্রস্তাব সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সর্বশেষ ২৭ এপ্রিল স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৭২৬.৬২ ডলারে দাঁড়ায়। জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসও স্থিতিশীল থেকে প্রতি আউন্স ৪,৭৪২ ডলারে অবস্থান করছে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬.৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ২,০২৫.২০ ডলারে উঠেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,৪৯৩.৫০ ডলারে নেমে এসেছে।

