

লোকমান হোসেন পলা, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্প ও ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
উদ্বোধনের অংশ হিসেবে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সিনাই খাল এবং বাদৈর ইউনিয়নের জিয়া বিল খালের খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়।
এদিন গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জয়নগর এলাকায় সিনাই খালের প্রায় ৫ কিলোমিটার এবং বাদৈর ইউনিয়নের মান্দারপুর এলাকায় জিয়া বিল খালের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশে খনন কাজ শুরু হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছামিউল ইসলাম কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহম্মদুর রহমান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াস, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইকলিল আযম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আশরাফ আলী, বাদৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিপন আহমেদ ভূইয়া, উপজেলা মহিলা বিএনপির নেত্রী লুৎফুন্নাহার রিনা ও রত্নামনি, বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, সরকারের ঘোষিত এ খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। খালগুলো পুনঃখনন হলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। ফলে জলাবদ্ধতা কমে যাবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল খাল খননের আওতায় আনা হবে এবং বেদখল খালগুলো উদ্ধার করে পুনঃখনন করা হবে।
এসময় বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় খাল খনন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে। তারা আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব খাল খনন করা হবে এবং দখলকৃত খালগুলোও উদ্ধার করে জনস্বার্থে ব্যবহার উপযোগী করা হবে।
স্থানীয় কৃষকরা খাল খনন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশন ও সেচ সমস্যায় ভুগছিলেন তারা। খাল পুনঃখনন হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে এবং ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

