

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের একটি ফিলিং ষ্টেশনে তেল না পেয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে ওই ফিলিং ষ্টেশনের আশপাশ এলাকা জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় মহাসড়কের দুই পাশে দুরপাল্লার অর্ধশতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। তবে এক ঘন্টা পর পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জানা গেছে, তেল সংকটের কারণে গোপালগঞ্জের পৌর এলাকার ৭টি ফিলিং স্টেশনে ভোর থেকেই তেল দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। এসময় ঘন্টার পর ঘন্টা তেলের জন্য অপেক্ষা করে গাড়ী চালকরা। কিন্তু তেল না পেয়ে বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) বেলা পৌনে তিনটার দিকে শহরতলীর মান্দারতলা এলাকায় নিগি ফিলিং স্টেশনের সামনে গাছের গুড়ি ফেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ বাইকাররা। এতে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা। অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ অবরোধকারীদের বুঝিয়ে ও গাছের গুড়ি সড়িয়ে এক ঘন্টা পর অবরোধ তুলে দেয়। এতে মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার আহমেদ এবং ফারদিন খান প্রিন্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তেল সরবরাহ কার্যক্রম তদারকি করলে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অবরোধকারীরা অভিযোগ করে বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলো তেল থাকার পরও তাদের তেল দেয়া হচ্ছে না। তেল নিতে ভোর থেকেই অপেক্ষা করেন তারা। কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না তারা। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরীসহ জনজীবনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
নিগি ফিলিং স্টেশনের মালিক মফিজুর রহমান লফিজ অভিযোগ করে বলেন, গভীর রাত পযর্ন্ত তেল দিতে কর্মচারীদের বাধ্য করায় পাম্পের কর্মচারীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমনকি কর্মচারীরা চাকরী ছেড়ে চলে যায়। এতে তেল বিতরণ কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না।
গোপালগঞ্জ থানার এসআই রেজাউল করিম বলেন, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেছে এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে ও গাছের গুড়ি সরিয়ে দিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেই। বর্তমানে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

