

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি ও এনসিপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় স্থানীয় বিএনপির অফিসও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে সাড়ে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ চলতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্বাচন সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। ভূমিহীন বাজার থেকে প্রকল্প বাজার এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়িবহরে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর সমর্থক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষ রাস্তায় অবস্থান নিলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এমপি হান্নান মাসউদ ঘটনাস্থলের সড়কে অবস্থান নেন। দেড় ঘন্টা অবস্থান শেষে পুলিশ পাহারায় নিরাপদ স্থানে চলে যান।
সংঘর্ষে হাতিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক শহীদুল্লাহ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলামসহ বিএনপি ও এনসিপির প্রায় ৪০জন আহত হয়েছেন বলে উভয় দলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়। আহতদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে দেখে ফেরার পথে স্থানীয় বেলাল নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তাঁর গাড়িবহরের পেছন থেকে হামলা চালানো হয়। তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
অন্যদিকে চানন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রকল্প বাজারে হান্নান মাসউদ উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের পর তাঁর দলের নেতাকর্মীরা বাজারে উঠে প্রথমে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে। পরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর শুরু করলে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল আলম বলেন, উভয়পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ ও এসআই শহীদুল ইসলাম আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

