ঢাকা
২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১০:৪৭
logo
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে ছয় গুণ, বিপাকে বাড়ীর কেয়ারটেকার

মোঃ মোকাররম হোসাইন, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই পৌরশহরের তালুকদার পাড়া মহল্লার বাসিন্দা মো. মোরশেদ তালুকদার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে আমেরিকায় বসবাস করে আসছেন। গত ডিসেম্বর মাসে সপরিবারে তিনি দেশে আসেন এবং তালুকদার পাড়া মহল্লার বাড়ীতে গড়ে একমাস বসবাস করে আবার তিনি আমেরিকাতে ফিরে যান। তিনি দেশে থাকা অবস্থায় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সদস্য হয়ে নিজ বাড়িতে সংযোগ নেন। তিনি যখন ওই বাড়িতে আসেন, তখন ৪টি বৈদ্যুতিক পাখা, ৭টি বাতি, একটি ফ্রিজ ও একটি টেলিভিশন ব্যবহার হয়। না থাকলে শুধুমাত্র বাহিরে ৩টি বাতি ব্যবহার হয়।

গত জানুয়ারী মাসে তিনি সপরিবারে ওই বাড়িতে ছিলেন। ওই মাসে বাড়ির নির্মাণ কাজ করেছেন প্রবাসী। শীতের মাস তবুও বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ৮’শ ইউনিট। এর প্রেক্ষিতে জানুয়ারী মাসে বিল হয়েছে ৯ হাজার ২৬৭ টাকা। তার আগে ডিসেম্বর/২৫ মাসে বাড়ির কেয়ারটেকার বিল পরিশোধ করেছে ৮৭২ টাকা। অথচ ফেব্রুয়ারী মাসে বিল দেওয়া হয়েছে ৬১ হাজার ১০ টাকা। যেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে ৪ হাজার ১৫০ ইউনিট। আগের মাসগুলোতেও বিদ্যুৎ বিল এসেছে এক হাজার টাকার নিচে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে পল্লীবিদ্যুতের স্থাপিত মিটারে ৪ হাজার ৯২৯ ইউনিট রিডিং দেখা যায়। অথচ দালিখকৃত বিলে ৮ হাজার ৮৮০ ইউনিট দেখানো হয়েছে। কেবলমাত্র প্রবাসী মোরশেদ তালুকদারই নন, দু/তিন মাস ধরে একই অবস্থা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের কয়েক হাজার গ্রাহকের। তাঁদের দাবি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না।

কালাই পৌরশহরের কলেজ পাড়ার বাসিন্দা কাজী তানভিরুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণত আমার মাসিক বিদ্যুৎ বিল থাকে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে। ডিসেম্বর মাসে বিল আসছিল ৮১০ টাকা, সেখানে জানুয়ারী মাসে বিল আসছে ৩ হাজার ১১০ টাকা। এ বিষয়ে জানতে চেয়েও বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের কাছে কোনো সঠিক ব্যাখ্যা পাইনি। বরং উল্টো তারা বলেছে, অনেক আগের পাওনা এই বিলে যোগ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, নিয়মিত বিল পরিশোধের পরও কিভাবে আগের বিল এই বিলের সাথে যোগ হয়। তাদের এমন কর্মকান্ড পুরো এলাকা জ্বালিয়ে তুলেছে।’

উপজেলার পুনট ইউনিয়নের শিকটা গ্রামের আব্দুল কাফি একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে আমার ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে। কিন্তু ফেব্রুয়ারী মাসে বিল এসেছে ১ হাজার ২২৫ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি। আমাদের গ্রামের সব গ্রাহকেরই এই মাসের বিলে একই অবস্থা।’
সড়াইল, আঁওড়া ও ধুনট গ্রামের তিন গ্রাহক বলেন, বিলের ভুল হিসাবের কারণে তাঁদের ভোগান্তি বেড়েছে। বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গিয়েও সমাধান মিলছে না। বরং উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

প্রবাসীর বাড়ির কেয়ারটেকার শহিদুল ইসলাম বলেন, ভুল বিল অফিস ঠিক করে দিয়েছে। ৬১ হাজার ১০ টাকা পরিবর্তে ১ হাজার ৪৭ টাকার সংশোধনী বিল করে দিয়েছে।

কালাই চাল-কল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, বিদ্যুতের বাড়তি বিলের বিষয়টি কয়েক মাস ধরে চলে আসছে। অনেক সময় অফিসে অভিযোগ জানালেও তা সংশোধনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে।

অধিকাংশ গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটার রিডিংয়ের ভুল অথবা অনিয়মিত রিডিংয়ের কারণে হঠাৎ বিল বেড়ে দ্বিগুণ থেকে ছয় গুণ পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এর বাইরে মিটারের কোনো ত্রুটির কারণেও এটি হতে পারে বলে অভিযোগ তাঁদের।

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কালাই জোনাল কার্যালয়ের তথ্যমতে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় পল্লী বিদ্যুতের ৪৭ হাজার ১০ জন গ্রাহক রয়েছেন। এই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য ৮৭৭ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ। ২০২৫ সালের জুন থেকে ৩০ ডিসেম্বর কালাই কার্যালয় ৭ কোটি ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৮ ইউনিট বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহকদের সরবরাহ করেছে। চলতি মাস থেকে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, ভুল রিডিংয়ের কারণে কিছু ক্ষেত্রে বিল বাড়ার আশঙ্কা তাঁরাও করছেন। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত যাচাই করে ভুল সংশোধন করা হচ্ছে।

কালাই জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. জোবায়ের আলী বসুনিয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার কিছু অভিযোগ আমরা পাই। কিন্তু বিল বেশি করার কোনো সুযোগ নেই। কোনো কারণে ভুল হলে তা ধরা পড়ার পরপরই আমরা সংশোধন করি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে নির্ভুল হিসাব অনুযায়ী বিল আসে। এক মাসের ব্যবধানে এক প্রবাসীর বাড়ির বিল ছয় গুণ বেড়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা আসলেই ভুল হয়েছে, গ্রাহক অফিসে আসা মাত্র আমরা তাঁর বিল সংশোধন করে দিয়েছি।’

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram