

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: শুরুর গল্পটা খুবই সাধারণ-বাড়ীর ছাদের টবে সবজি ও ফলফলাদির গাছ লাগানো। কিন্তু সেই সাধারণ শুরু থেকেই জন্ম নেয় এক অসাধারণ সাফল্যের গল্প। ছয় বছর ধরে ছাদ বাগান করে কৃষির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় কলেজ পড়ুয়া তিন ভাইয়ের। ধীরে ধীরে প্রশ্ন আসে মনে-এভাবে ছোট পরিসরে নয়, বড় করে কিছু করা যায় না? সেই ভাবনাই তাদের নিয়ে যায় নিজেদের পরিত্যক্ত জমির দিকে। যেখানে বছরের পর বছর কোনো আবাদ হয়নি, আগাছায় ভরে ছিল জমি। সেখানেই তারা দেখেন সম্ভাবনা। মাটি উঁচু করে, পরিকল্পনা করে, শুরু হয় বরই বাগান গড়ার স্বপ্নযাত্রা।
জানা যায়, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামে ২০২৩ সালে প্রথমে ৫০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বরই চাষ শুরু করেন তারা। অনেকের চোখে তখন বিষয়টি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে ওঠে রঙিন বরই, আর সাফল্যের হাসি ফুটে ওঠে তিন ভাইয়ের মুখে। সফলতা দেখেই থেমে থাকেননি তারা। পরবর্তীতে আরও ৭০ শতক জমিতে বাগান সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে ১২০ শতক জমিতে ৫ শতাধিক বরই গাছে ফল ধরেছে।
এই তিন ভাই হলেন- চট্টগ্রাম পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাজ্জাত হোসেন, মিরসরাই কলেজের শিক্ষার্থী সাফায়েত হোসেন এবং মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাইফ হোসেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেরাই বাগানের সব কাজ সামলান তারা। ফলে বাড়তি শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। বাবা সাইদুল আলম ও মা লাকী সুলতানা সবসময় পাশে থেকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন, সন্তানদের এই সাফল্যে তারাও গর্বিত।
উদ্যেক্তা সাজ্জাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের বাগানে বর্তমানে ৭ প্রজাতির বরই রয়েছে। এরমধ্যে অস্ট্রেলিয়ান বলসুন্দরী, চায়না টক-মিষ্টি, কাশ্মিরী রেড আপেল ও বারোমাসি বরই উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে প্রথমবার ফল বিক্রির উপযোগী হলে প্রায় ১ টন বরই বিক্রি করি, যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে ২ টনের বেশি ফলনের আশা করছি, যার সম্ভাব্য বাজার মূল্য ২ লক্ষাধিক টাকা।’
আরেক উদ্যোক্তা সাফায়েত হোসেন বলেন, ‘মিরসরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি)-এর আওতায় আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পেয়েছি। এছাড়া গাছের চারা, সার ও টেকনোলজিগত সহায়তাও করা হয়। যা আমাদের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে।’
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার এই উদ্যোগ এখন এলাকায় অনুপ্রেরণার নাম। কলেজ পড়ুয়া তিন ভাইয়ের উদ্যোগকে সমৃদ্ধ করতে আমরা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ, চারা, সার ও টেকনোলজিগত সহযোগিতা করেছি। আমরা আশা করছি তাদের সফলতা দেখে আরো অনেকেই বরই আবাদে এগিয়ে আসবে। আমরা দেখছি এই বরইর চাহিদা অনেক ভালো, বিক্রি করে ভালো মূল্য পাওয়া যাচ্ছে।’

