

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াছ মোল্লার পক্ষে গণসংযোগ করার সময় হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার গোপালদী মোল্লারচর এলাকায় এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াছ মোল্লা জানান, প্রতিদিনকার মত মঙ্গলবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার একটি দল পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে উপজেলা গোপালদী পৌরসভার মোল্লার এলাকায় গণসংযোগ করতে যায়। এসময় স্থানীয় বিএনপি কর্মী মোরশেদ মিয়া, খোরশেদ আলম ও মহসিন মিয়া নেতৃত্বে একটি গ্রুপ মহিলারা কেন দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণসংযোগ করতে আসলো এ নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের রাজাকারের সন্তান বলে গালি দেয়। মোবাইল ফোনে জামায়াত নেতাদের জানালে তারা ছাত্র শিবিরের একটি টীমকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করে। শিবির নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয় এবং তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করে। পরে তিনি ও তার দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছালে তাদের সাথে বাজে আচরণ করে। পরিস্থিতি এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় আড়াইহাজার পৌরসভা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান অর্ণবসহ শিবির নেতা (২৮), মিরাজ মাহমুদ (২৮), মেহেদী হাসান অন্তর (২৮), শাফিল আহম্মেদ (২৯), জামায়াতের কর্মী মুফতী মাহমুদ আব্বাসী (৩০), মেহেদী হাসান (২৪), কাজী মারুফ (৪৫) ও মাহবুব জোবায়ের (২৮) নামে ৮ শিবির নেতাকর্মী আহত হন। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান অর্ণব ও শাফিল আহম্মেদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট প্রফেসর আজিজুল হক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আসাদুর রহমানের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আসাদুর রহমান জানান, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ফরমাল মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কেউ যদি নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করার ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

