

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নে ২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে পদ্মা নদীতে কয়েকদিন ধরে কুমিরের দেখা মিলেছে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে স্কুলের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, কুমির দেখতে পদ্মা নদীর তীরে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।
স্থানীয়দের দাবি, কখনো সকাল, কখনো দুপুরে কুমির ভেসে উঠেছে নদীতে। স্থানীয় যুবকসহ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেইসবুক) কুমিরের ছবি দিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করে পোস্ট করেছেন।
উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম তার ফেইসবুকে লিখেছেন, হঠাৎই কুমির দেখা গেল আমাদের ২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (দেওয়ান বাড়ি স্কুল) এর পূর্ব পাশে পদ্মা নদীতে। স্থানীয় সকলকে সতর্ক থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।
স্থানীয় এক যুবক তার ফেইসবুকে লিখেছেন, রাজবাড়ী উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে মঙ্গলবার একটি বড় সাইজের কুমিরটি দেখা গেছে। সকাল থেকে বেশ কয়েকবার কুমিরটি নদীতে ভেসে উঠেছে। যে স্থানে কুমিরটি দেখা গেছে সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ আগে গোসল করত। এ নিয়ে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে সবাই মঙ্গলবার সকাল থেকেই সবাই বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করে নদীতে গোসল ও নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
আজগর আলী আরজু তার ফেইসবুকে লিখেছেন, বিশেষ সর্তকতা। রাজবাড়ী পদ্মা নদীর ওড়াকান্দা বাজার পয়েন্টে নদীতে কুমির দেখা যাচ্ছে, স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বরাট ইউপি চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন বলেন, আমি নিজেও শুনেছি গত দুই থেকে তিন দিন এখানে কুমির ভেসে উঠেছে। আজও দুইবার দেখা গেছে। এটা শুনে বিকেলে এসেছি দেখতে। তবে দেখতে পাইনি এখনো।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর সায়েদুর রহমান বলেন, আমিও বিষয়টি জানতে পেরেছি উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদীতে কুমির দেখা যাচ্ছে। যেহেতু ওইটা মূল নদী সেহেতু ওখান থেকে কুমির ধরাটা এক প্রকার অসম্ভব। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সচেতন করেছি, যাতে তারা নদীতে না নামে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপমা রায় বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মা পাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
উল্ল্যখ, গত বছর রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার গড়াই নদীতে ২টি কুমির একমাস যাবৎ দেখা যায়। পরে তার একটি মাগুড়া আঞ্চলের নদীর পারের মানুষ জাল দিয়ে ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

