

মোঃ রাকিবুল ইসলাম, ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে সেতু থেকে লাফ দিয়ে এক তরুণীর জীবন বাঁচিয়েছে ইজিবাইক চালক হাসান।
বৃহস্পতিবার রাতে ইন্দুরকানী শেখ ফজলুল হক মনি সেতুতে এ ঘটনা ঘটে। ইজিবাইক চালক উপজেলার পার্শ্ববর্তী সংকরপাশা ইউনিয়নের মাটিভাঙ্গা গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে।
সরেজমিনে গেলে জানা যায়, ইন্দুরকানী ইউনিয়নের সেউতিবাড়িয়া গ্রামের মোঃ দুলাল হোসেনের মেয়ে তামান্না(ছদ্মনাম) নামের এক তরুণী বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেয়। এসময় সেতুর উপর দাঁড়িয়ে থাকা ইজিবাইক চালক হাসান নিজের জীবনের কথা না ভেবে তরুণীকে বাচাঁনোর জন্য সাথে সাথে তিনিও নদী ঝাঁপ দিয়ে মেয়েটির প্রান রক্ষা করে ৷ পরে অজ্ঞান মেয়েটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসা শেষে মেয়েটির জ্ঞান ফেরে।
প্রত্যক্ষদর্শী হাফেজ নাছরুল্লাহ দি বাংলাদেশ টুডে কে বলেন, যখন ঘটনাটি ঘটে তখন আমি ও আমার বন্ধুরা সেতুর পাশে বসা ছিলাম হঠাৎ মেয়েটিকে ঝাঁপ দিতে দেখি। পরে হাসান নামের এক ইজিবাইক চালক মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য সাথে সাথে তিনিও নদীতে ঝাঁপ দেয় এবং মেয়েটিকে উদ্ধার করে। ইজিবাইক চালক হাসানের সাহসী ভূমিকার জন্য মেয়েটি প্রানে বেঁচে যায়।
ইজিবাইক চালক হাসান বলেন, আমি যাত্রী নেয়ার জন্য সেতুতে দাড়িয়ে ছিলাম, মেয়েটি ঝাঁপ দেয়ার পর দাড়িয়ে থাকা লোকজন আমাকে বলে মেয়েটিকে বাঁচান। আমি কোন কিছু চিন্তা না করেই মেয়েটিকে বাচাঁনোর জন্য নদীতে ঝাঁপ দেই পরে কিছুক্ষণ পরে মেয়েটিকে খুজে পেলে কিনারে নিয়ে আসি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আসলে যে যাই বলুক কারো বিপদ দেখলে বসে থাকা ঠিক না, সে আমার বোন হলে কি আমি বসে থাকতে পারতাম।
আত্মহত্যা চেষ্টার কারন জানতে চাইলে তরুণীর পিতা দুলাল হোসেন বলেন, আমার জামাই প্রবাসে থাকে, মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে কিছুদিন যাবত ঝামেলা চলছে। গতকাল তাদের মাধ্যে ঝগড়া ও কথার কাটাকাটি হয়। হয়তো সেই কারনে সে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমি ইজিবাইক চালক হাসানের কাছে আজিবন কৃতজ্ঞ থাকবো।
বর্তমানে চিকিৎসারত তরুণী পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। বর্তমানে আগের চেয়ে শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।
