

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতি নভেম্বরে কিছুটা মন্থর হয়েছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পারচেজিং ম্যানেজারস’ ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী, স্কোরটি ৭.৮ পয়েন্ট কমে ৫৪.০-এ নেমে এসেছে।
রপ্তানি চাপে, অভ্যন্তরীণ চাহিদাও দুর্বলস্কোরটি এখনো সম্প্রসারণ সীমা ৫০-এর ওপরে থাকলেও অর্থনীতিবিদদের মতে, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে স্পষ্ট শ্লথগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রবৃদ্ধির এই ধীরগতি আগামী মাসগুলোতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সব প্রধান খাতেই ধীরগতির অগ্রগতি : নভেম্বরের পিএমআই প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা সব খাতে সম্প্রসারণ বজায় থাকলেও গতি আগের তুলনায় কমেছে।
কৃষি খাত : টানা তৃতীয় মাস ধরে সম্প্রসারণ হয়েছে, তবে গতি খুব কম। নতুন ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সূচক দুর্বল। সামগ্রিক কার্যক্রমে সতর্কতা লক্ষণীয়।
উৎপাদন খাত : টানা ১৫ মাস ধরে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু অর্ডার ব্যাকলগ দ্রুততর হারে কমেছে, যা চাহিদায় দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। নতুন ও রপ্তানি অর্ডার, উৎপাদন, আমদানি, কর্মসংস্থান সব সূচকই ধীরগতির সম্প্রসারণ দেখিয়েছে।
নির্মাণ কার্যক্রম, কর্মসংস্থান ও ইনপুট খরচ সূচক বেড়েছে। নতুন ব্যবসা সূচক আবার সংকোচনে নেমে এসেছে, যা নতুন প্রকল্প ও বিনিয়োগে সতর্কতার ইঙ্গিত দেয়।
সেবা খাত : টানা ১৪ মাস সম্প্রসারণ বজায় থাকলেও নতুন ব্যবসা, ব্যাবসায়িক কার্যক্রম ও অর্ডার ব্যাকলগ সবই হ্রাস পেয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
রপ্তানি চাপে, অভ্যন্তরীণ চাহিদাও দুর্বল বলে উল্লেখ করেন পিইবির চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া, রপ্তানি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া এবং নির্বাচনের আগে বিনিয়োগ স্থগিতের প্রবণতা অর্থনৈতিক সম্প্রসারণকে মন্থর করেছে।
’ তিনি আরো বলেন, মাসওয়ারি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কৃষিতে মৌসুমি ফসল কাটার অগ্রগতি সামগ্রিক পিএমআইকে সম্প্রসারণ পর্যায়ে রাখতে সহায়তা করেছে।
প্রতিবেদনে উৎপাদন ছাড়া সব খাতে গতি বাড়ার প্রত্যাশা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কৃষি, নির্মাণ ও সেবা খাতে আগামী মাসগুলোতে দ্রুততর সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন খাতে শ্লথগতির সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ রপ্তানি অর্ডার পুনরুদ্ধারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে ব্যাবসায়িক আস্থা ও প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে নীতি সহায়তা জরুরি হয়ে উঠবে।
