

ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নিষেধাজ্ঞা শেষে গত শনিবার মধ্যরাত থেকে পরবর্তী দুইদিন জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছিল। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যা থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশ আবার কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা।
নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকা হাতিয়ার কাজির বাজার, সূর্যমুখী, দানার দোল এবং রহমত বাজার ঘাটের জেলে ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় মৎস্য আহরণের এমন হালচাল।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে হাতিয়ার কাজির বাজার মৎস্য ঘাটে দেখা যায়, মেঘনা ও সাগর মোহনায় মাছ শিকারি জেলেরা ফিরেছেন কমসংখ্যক কিছু ইলিশ নিয়ে। গতকাল সন্ধ্যার সময়ও মাছের অবস্থা এমন ছিল বলে জানান তারা। এ অবস্থায় তাদের খরচের সাথে পোষেনা বিধায় জাল-বোট নিয়ে একবারে উঠে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন তারা।
এরইমধ্যে জামসেদ মাঝির বোট থেকে পোয়া মাছসহ অন্যান্য মাছের সাথে ২ কেজি ৪০০ গ্রামের একটি ইলিশ ডাক বক্সে ফেলতে দেখা যায়। যা বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৪০০ টাকায়।
দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর জেলে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে ঘাট এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেলেও গতকাল বিকেল থেকে তাতে আবার ভাঁটা পড়তে দেখা যায়।
কাজির বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী নাজিম জানান, এ বছর নিষেধাজ্ঞা সঠিক সময়ে দেওয়া হয়নি। তবুও নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী দুইদিন সাগরে বেশ পরিমাণ মাছ পড়েছে। এতে দামও মোটামুটি কম ছিল। এখন আবার জেলেদের জালে মাছ কম পড়ায় তাদের অনেকে উঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূর্যমুখী ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিনও একই বিষয় জানিয়ে বলেন, গতকাল বিকেল থেকে নদীতে মাছ খুব কম লাগছে। এতে বোটের মালিক ও জেলেদের খরচের সাথে পোষানো যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরবর্তী দুই দিন জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়েছে। এতে মাছের দামও ছিল সহনীয়। ৫০০ গ্রাম ওজনের এক পন(৮০টা বা ১মণ) ইলিশ ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। ১ কেজি ওজনের পন(৮০টা/১মণ) প্রতি এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে।
নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, ২১ অক্টোবর থেকে পূর্ণিমা শুরু হয়েছিল, তাই প্রথম দু'দিন বেশি পরিমাণ মাছ লেগেছে। গতরাত থেকে পূর্ণিমা শেষ, তাই এখন থেকে আগামী কিছুদিন জেলেদের জালে মাছ তেমন ধরা পড়বেনা।
