

ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে বিশাল রান তাড়া করে জয়ের নায়ক হওয়ার পর এবার টি-টোয়েন্টিতেও ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ। তার দুর্দান্ত শতরানের ওপর ভর করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়া করে ভারতকে হারিয়েছে ক্যারিবীয়রা। ৬ উইকেটের এই জয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে সফরকারী দল।
রাঁচিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৪৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত। জবাবে হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই ক্যারিবীয়দের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর আগে সর্বোচ্চ ২৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দলের লড়াইয়ে মোট ৫১৭ রান হয়েছিল, যা এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ সম্মিলিত সংগ্রহের রেকর্ড। এবার ভারতের বিপক্ষে ২৫০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার জয় তুলে নিল ক্যারিবীয়রা। ম্যাচটিতে দুই দল মিলে করেছে ৫০১ রান। এর আগে ভারতের বিপক্ষে ২২৩ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের নজির ছিল না কোনো দলের।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ভারতের হয়ে শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন অভিষেক শর্মা। প্রথম ওভারে ছক্কা এবং পরের ওভারে দুটি চার হাঁকালেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। ১২ বলে ২০ রান করে বিদায় নেন এই ওপেনার।
অন্যদিকে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন সঞ্জু স্যামসন। দুটি জীবন পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪১ বলে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮২ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। মাত্র ২১ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই ব্যাটার। ইশান কিষাণের সঙ্গে তার জুটিতে ৪৩ বলে আসে ৯৭ রান।
তবে পরপর ইশান কিষাণ ও শিভাম দুবেকে ফিরিয়ে ভারতের রানের গতিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন রোস্টন চেজ। ২২ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৩ রান করে ফেরেন ইশান। দুবের ব্যাট থেকে আসে ৭ রান। পরের ওভারে স্যামসনও ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে ভারত।
সেই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মা। পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৩৩ বলে ৮৩ রানের ঝোড়ো জুটি গড়েন তারা। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা আইয়ার এবার ১৮ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ রান করেন। একই সংখ্যক বল খেলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৪ রান যোগ করেন তিলক। তাদের ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যায় ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন চেজ। ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন তিনি।
বিশাল লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ওভারেই দুটি উইকেট হারানোর পর পাওয়ার প্লের মধ্যে আরও একটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। তবে এরপর ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন হোপ ও রাদারফোর্ড।
চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৫৪ বলে ১২০ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটার। ৩৭ বলে ৭টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৮৪ রান করে রাদারফোর্ড আউট হলে ভাঙে এই জুটি। তবে ততক্ষণে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তারা।
এরপর হোপের সঙ্গে যোগ দেন রোমারিও শেফার্ড। দুজনের ব্যাটে মাত্র ২৬ বলে আসে ৭৪ রান। তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় ভারত।
হোপ ৪৫ বলে ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায় অপরাজিত ১০২ রান করেন। তার দুর্দান্ত ইনিংসের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। শেষ দিকে ঝোড়ো ব্যাটিং করে শেফার্ড ১৩ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ৩৪ রান যোগ করেন।
ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন মায়াঙ্ক যাদব। তবে বোলারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়েও জয় পায়নি স্বাগতিকরা। অন্যদিকে হোপের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক রান তাড়ার জয় নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
