

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সুইডেনের বিপক্ষে শুধু জোড়া গোলই করেননি ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে, বরং ফুটবল ইতিহাসের সুদীর্ঘ পাতায় এমন এক মহাকাব্যিক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন যা ভাঙা আগামী কয়েক দশকেও অসম্ভব। সুইডেনের বিরুদ্ধে ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করার সাথে সাথেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের একক মালিক হয়ে গেছেন এই ফরাসি সুপারস্টার।
বিশ্বকাপের নকআউট বা শেষ ১৬ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত ম্যাচগুলোতে সর্বোচ্চ ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে এই রেকর্ডের শীর্ষে ছিলেন ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি লিওনিদাস ও রোনালদো নাজারিও। তাদের টপকে নকআউটে নিজের ৯ নম্বর গোলটি করে এককভাবে সিংহাসনে বসলেন এমবাপ্পে।
এই জাদুকরী ৭৪ মিনিটের গোলের পর আরও বেশ কয়েকটি সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গেছে। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এটি এমবাপ্পের ৬ষ্ঠ গোল, যার মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেলেছেন। শুধু তাই নয়, সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে এটি এমবাপ্পের ১৮তম গোল। এর ফলে বিশ্বমঞ্চের সর্বকালীন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির (১৯ গোল) চেয়ে মাত্র এক গোলে পিছিয়ে আছেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
এমবাপ্পের এই অতিমানবীয় রেকর্ডের রাতে মাঝমাঠের আসল কারিগর হিসেবে পাশে ছিলেন মাইকেল ওলিসে। তার জাদুকরী ফর্মের ওপর ভর করেই একের পর এক আক্রমণ সাজিয়েছে ফ্রান্স। এর মধ্যেই বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ৫টি অ্যাসিস্টের এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কিংবদন্তি টমাস হ্যাসলারের পর বিশ্বকাপের এক আসরে এত বেশি অ্যাসিস্ট আর কোনো ফুটবলার করতে পারেননি। ওলিসের পাস আর এমবাপ্পের ৯ নম্বর নকআউট গোলের ওপর চড়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ফ্রান্স এখন প্রতিপক্ষদের মনে কাঁপন ধরিয়ে শেষ ১৬-র মঞ্চ কাঁপাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
