ঢাকা
logo
প্রকাশিত : October 22, 2026

‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মা আর ছোট ভাইয়ের কী হবে’

ভারতের মহারাষ্ট্রে পারিবারিক আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বিশ্বরাজসিংহ ময়ূরসিংহ গোহিল (৩৮) নামের এক যুবক। ১,৭০০ ফুট গভীর গিরিখাতে আত্মাহুতির আগে ১৩ মিনিটের ভিডিও বার্তায় দেশের ৪৯৮ ধারা (যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন বিরোধী আইন) পরিবর্তনের দাবি জানান গুজরাটের ভাবনগরের এই বাসিন্দা। তার এই চরম সিদ্ধান্ত ও শেষ বার্তাটি নেটদুনিয়ায় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নিহত বিশ্বরাজসিংহ ময়ূরসিংহ গোহিল গুজরাটের ভাবনগরের বাসিন্দা ছিলেন এবং ডাক বিভাগে চাকরি করতেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি তার বিয়ে হয়েছিল। তবে সেই সংসার টেকে মাত্র আট মাস। এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রী যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেন, যে মামলায় গত ৯ অক্টোবর আদালতে হাজিরাও দিয়েছিলেন ওই যুবক।

মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা ভিডিওতে বৈবাহিক সংকট ও আইনি লড়াই নিয়ে নিজের চরম হতাশার কথা প্রকাশ করেন বিশ্বরাজসিংহ।

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ আমি খাদে লাফিয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি। আপনারা হয়তো ভাবছেন কী এমন ঘটল? যখন জীবনে আর কিছু বা কোনো আশাই অবশিষ্ট থাকে না... এবং যখন এই পরিস্থিতি কোনো ভালো সম্পর্ক থেকে তৈরি হয়, তখন তা আপনার আত্মাকে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। আমরা বলি বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন, যা জন্মজন্মান্তরের জন্য। কিন্তু বর্তমান যুগে দুজনের চিন্তা-ভাবনা, মেজাজ ও অভ্যাস না মিললে এবং মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব তৈরি হলে মানুষ তো বিচ্ছেদ ঘটিয়েই নেয়।’

সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ এনে তিনি জানান, তাদের দৈনন্দিন সাধারণ মতবিরোধকেও স্ত্রী ও তার পরিবার ‘পারিবারিক সহিংসতা’ হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে।

বিশ্বরাজসিংহ বলেন, ‘তখন আমার ধারণাও ছিল না যে এমন এক ঝড় আমার জীবনে অপেক্ষা করছে। আমার বাড়িতে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি, অথচ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে আমি, আমার মা এবং আমার ভাই আমার স্ত্রীকে মারধর করেছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। পুলিশ এফআইআর দায়ের করার সময় কোনো প্রমাণ বা মেডিকেল রিপোর্টও তলব করে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক চাপের’ কারণে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বরাজসিংহের দাবি, তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জোরপূর্বক তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘তারা দাবি করেন তাদের স্বর্ণালংকার আমাদের কাছে রয়েছে। অথচ সত্যি কথা হলো, যখন তার বাবা-মা তাকে জোর করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, সে নিজে বলেছিল যে সে যেতে চায় না। আমাদের সমাজের মানুষেরা এর সাক্ষী। সে আমাদের দেওয়া স্বর্ণ পরেই চলে গেছে, অথচ যখন আমরা আমাদের জিনিসপত্র ফেরত চাই, তখন এর কোনো বিচার বা তাদের ওপর কোনো চাপ থাকে না। সব চাপ শুধু ছেলের পরিবারের ওপরই আসে।’

প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘আমার শ্বশুর আমাকে বলতেন তিনি আমার বাবার মতো। কোনো বাবা কি তার সন্তানকে নিঃস্ব করেন, তার মানসিক অবস্থা ধ্বংস করেন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন? একজন বাবা তো ক্ষমা করে দেন এবং আরেকটি সুযোগ দেন। আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু আমার মা এবং আমার ১৬ বছরের ছোট ভাইয়ের কী হবে, যাকে মিথ্যাভাবে যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় জড়ানো হয়েছে?’

সূত্র: ভাস্কর ইংলিশ

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram