

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই বাণিজ্য ফ্রন্টে একটি ইতিবাচক অগ্রগতির খবর সামনে এসেছে। দুই পরাশক্তির মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির (ট্রেড ট্রুস) মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন ও বেইজিং।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্মেলনের সূচনাতেই এই স্বস্তিদায়ক খবর নিশ্চিত করেছেন। যৌথ সামরিক ঘাঁটি 'জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ'-এর টারমাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন চীনা প্রতিপক্ষকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, গত বছর থেকে কার্যকর থাকা এবং চলতি বছরের নভেম্বরে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা থাকা এই বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়ে অন্তত আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই সিদ্ধান্তের আগে গত সাপ্তাহিক ছুটিতে নিউইয়র্কে এবং পরবর্তীতে বুধবার ওয়াশিংটনে চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লিফেং-এর সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের দীর্ঘ ও নিবিড় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এর আগে ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর দফায় দফায় বিপুল শুল্কারোপ করে বাণিজ্য যুদ্ধকে তীব্র করে তুলেছিলেন। পাল্টা জবাবে চীন প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থস) রফতানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়, যা পুরো পরিস্থিতিকে একটি বড় অচলাবস্থায় রূপ দেয়।
সাময়িক এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও, বৃহস্পতিবার দুই শীর্ষ নেতা যখন মুখোমুখি আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবেন, তখন সেখানে প্রকৃত কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান আসবে কি না—তা-ই এখন দেখার বিষয়।
