

গাজার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে 'খলনায়ক' টনি ব্লেয়ারকে। উপত্যকার শাসন তদারকিতে গঠিত 'বোর্ড অব পিস'-এর নির্বাহী সদস্য হয়েছেন সাবেক এই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। বিতর্কিত সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হাত মিলিয়ে ইরাক যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন তিনি। ইসরায়েলের মিত্র হিসেবে পরিচিত এই রাজনীতিক নিজ দেশসহ অনেক আরব দেশে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিবেচিত।
মূলত গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুদের অভিযোগ এনে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য যৌথ বাহিনী। মাত্র কয়েক মাসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সাজানো গোছানো দেশটি। বলা হয়ে থাকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ছাড়াও এই যুদ্ধের অন্যতম রূপকার সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে বিতর্কিত ও খলনায়ক তকমা পাওয়া সেই ব্লেয়ারকেই এখন গাজার বোর্ড অব পিসের নির্বাহী সদস্য বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই বিশেষ বোর্ডই এখন তদারকি করবে উপত্যকার নতুন টেকনোক্রেট সরকার।
১০ বছর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা টনি ব্লেয়ারের ইরাক যুদ্ধের ভূমিকা ছিল নানা কারণে সমালোচিত। অভিযোগ রয়েছে, ইরাক আক্রমণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে সমর্থন জুগিয়েছিলেন তিনি। তার নির্দেশেই যুদ্ধে অংশ নেয় ব্রিটিশ বাহিনী। যে কারণে অনেক আরব দেশ তো বটেই নিজ দেশের বিপুল মানুষের কাছেও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিবেচিত তিনি।
প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর একসময় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন টনি ব্লেয়ার। দায়িত্ব ছিল- ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শাসন ব্যবস্থার সংস্কার। অভিযোগ রয়েছে- দূত থাকাকালে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থামাতে তেমন কিছুই করেননি তিনি। ফলস্বরূপ পরিচয় লাভ করেন ইসরায়েলের বন্ধু হিসেবে।
এক সময়ে ইরাককে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার অন্যতম কুশিলব টনি ব্লেয়ারকে এখন দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে আরেক যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকার পুনর্গঠনের। প্রশ্ন উঠেছে— গাজার মতো স্পর্শকতার ভূখণ্ডে তার ভূমিকা কতটুকু গ্রহণযোগ্য? কেমন ভূমিকাই বা রাখবেন তিনি?

