ঢাকা
৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ১১:৪৫
logo
প্রকাশিত : মার্চ ২, ২০২৬

সাইটেশন জালিয়াতি করে ‘উপ-উপাচার্য’ পদে পবিপ্রবির ড. হেমায়েত

পবিপ্রবি প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য এবং কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানের বিরুদ্ধে সাইটেশন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্য হওয়ার প্রাক্কালে তিনি গুগল স্কলারে নিজের প্রোফাইলে অন্য গবেষকদের প্রবন্ধ যুক্ত করেছিলেন। ফলে তার সাইটেশন সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রায় দুই হাজারে পৌঁছায়। পরে উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগের পর তার পূর্বের প্রোফাইলটি গুগল স্কলার থেকে মুছে যায় এবং বর্তমানে বিদ্যমান প্রোফাইলে মাত্র ৩২৬টি সাইটেশন দেখা যাচ্ছে।

গবেষণা জগতে একজন গবেষকের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব মাপার অন্যতম সূচক হলো সাইটেশন সংখ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা গবেষণা অনুদান নির্ধারণে এই সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সাইটেশন বৃদ্ধি করতে কৃত্রিম পন্থা গ্রহণের অভিযোগও নতুন নয়। মূলত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপ-উপাচার্য এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে সাইটেশন জালিয়াতির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারের পরই অধ্যাপক হেমায়েত জাহান নিজের প্রোফাইল থেকে অন্য গবেষকদের প্রবন্ধ সরিয়ে নেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকতার পাশাপাশি ভালো গবেষককে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। সে সময় উপাচার্য হওয়ার প্রয়াসে অধ্যাপক হেমায়েত জাহান কৃত্রিম পন্থায় নিজের প্রোফাইলে অন্য গবেষকের প্রবন্ধ যুক্ত করে সাইটেশন সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করেন। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গুগল স্কলারে তার সাইটেশন সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৬০। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যমান প্রোফাইলে মাত্র ৩২৬টি সাইটেশন দেখা যাচ্ছে।

জানা যায়, গুগল স্কলারের প্রোফাইল গবেষকরাই পরিচালনা করেন এবং প্রবন্ধগুলো নিজ উদ্যোগে যুক্ত করতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, নামের মিল থাকা বিভিন্ন দেশের গবেষকের প্রবন্ধ ড. হেমায়েত জাহানের প্রোফাইলে যুক্ত করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান তার সাইটেশন জালিয়াতির জন্য অস্ট্রেলিয়ান গবেষক Sayka Jahan (S Jahan)-এর বেশিরভাগ গবেষণা প্রবন্ধ নিজের প্রোফাইলে আপলোড করেছিলেন। এসব সাইটেশনের ভিত্তিতেই তিনি ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান।

অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাটিকে “অটোমেটিক পদ্ধতির ফল” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের কারণেই হয়তো অতিরিক্ত সাইটেশন যুক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্যান্য গবেষকদের নাম নজরে এলে বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নেই।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে আমি প্রোফাইলে সাইটেশন বৃদ্ধির বিষয়টি খেয়াল করিনি তাই এভাবে অন্যের আর্টিকেল যুক্ত হয়ে গিয়েছিল।”

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ড. মো. গুলজার হোসেন বলেন, “গুগল স্কলার অটোমেটিক এনাবল করে রেখে অনেকেই অন্যের আর্টিকেল নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করে ফেলেন। কিন্তু এখানে কোনো গবেষক যখনই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেন, তখন দেখতে পারেন কারও সাইটেশন যুক্ত হয়েছে কি না। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে আর্টিকেল যুক্ত হওয়ার পর সাজেশনও আসে—সেই আর্টিকেল তার কি না। তাই পদ-পদবি পাওয়ার উদ্দেশ্যে অন্যের সাইটেশন নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করে রাখা বড় অন্যায়। এসব জালিয়াতির ব্যাপারে গুগল স্কলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে আইডি বন্ধ করে দেয়।”

বিশিষ্ট গবেষক ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম শহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “এত কম সময়ে এত বিশাল সংখ্যক সাইটেশন বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। এ ধরনের গবেষকদের আমরা সাধারণত ‘সিউডো সায়েন্টিস্ট’ বলে থাকি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ক্যারিয়ার ইভালুয়েশন করা উচিত। যদি কোনো ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে এভাবে সাইটেশন বৃদ্ধি করে কোনো পদ-পদবি পেয়ে থাকেন, তবে সরকারি বিধি মোতাবেক পদাবনতির বিধান রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, এটি প্রথম নয়—অধ্যাপক হেমায়েত জাহানকে নিয়ে আগেও রয়েছে নানা বিতর্ক। একটি কলেজের প্রাণীবিদ্যার ছাত্র হলেও ২০০৬ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তবে প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তিনি কীটতত্ত্ব বিভাগে আবেদনই করেননি; আবেদন করেছিলেন এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগে। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক প্রভাব ও সুসম্পর্কের জেরে নিয়োগের পরপরই জামায়াতপন্থী উপাচার্য ড. আবদুল লতিফ মাসুমের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও তিনি নিয়োগ পান। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি ২০২৫ সালে শিবিরের একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তার সঙ্গে মনোমালিন্য ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram