

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাজারে বেচাকেনা চলা অবস্থায় দোকানিকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে ৪টি দোকান দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। বাজারে জায়গার মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটান ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দিনাজ উদ্দিন।
সোমবার (০২ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন।
এর আগে রোববার বিকেলে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত দিনাজ উদ্দিন জাহাজমারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি একই ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে তা ভাড়া দিয়ে ভোগদখল করে আসছেন স্থানীয় নাসির উদ্দিন ও তার ভাই। জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত কাগজপত্রও তাদের কাছে রয়েছে। কিন্তু গত কিছুদিন যাবত দিনাজ এবং তার বাবা জায়গার মালিক বলে দাবি করে আসছে। এ সংক্রান্তে তারা আদালতে মামলা করেছেন। যা বিচারাধীন রয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে অভিযুক্তদের বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ জোরপূর্বক দোকানঘরে প্রবেশ করেন। তারা বেচাকেনায় ব্যস্ত থাকা দোকানিদের বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেন। নাছির উদ্দিন ও তার ভাই বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরে ভুক্তভোগীরা সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। যাতে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, দোকানঘরের তালা খুলে দেওয়া এবং তার ও তার ভাইয়ের মালিকানাধীন সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
যা পরে সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মমিনুল হককে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা দিনাজ উদ্দিন বলেন, তারা ২০১৬ সালে আওয়ামী সরকারের প্রভাব দেখিয়ে আমাদের এই জায়গা দখল করে। এরপর আমরা সিভিল কোর্টে মামলা করি। সরকার পতনের পর নৌবাহিনীর কারণে আমরা দখলে যেতে পারিনি। গতকাল হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতে বৈঠক হয়। তাতে তারা মালিকানার কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এই জায়গা আমাদের, তাই আমরা দখলে নিয়েছি।
এ বিষয়ে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোমিনুল হক বলেন, সহকারী পুলিশ সুপার আমাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এবং সরেজমিনে গিয়ে দোকান ঘরের তালা দেওয়ার ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া যায়। আদালতের নির্দেশ ছাড়া কেউ কারো ঘরে তালা দিতে পারে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
