

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ: গ্রামীণ কৃষির উন্নয়ন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বড়ছড়া খাল ফ্ল্যাগশিপ উপ-প্রকল্প। ১১ কোটি ৯০ লাখ ৩ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষির চিত্র। খালের পানি সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত ব্যবহারের ফলে ৫২৯ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে পানিউমদা, বরকান্দি ও কুর্শা গ্রামের ৪২৮টি পরিবার সরাসরি উপকৃত হচ্ছে।
রোববার (১ নভেম্বর) নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়ন এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) হবিগঞ্জের বাস্তবায়নে ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) জাইকা-২-এর আওতায় বড়ছড়া খাল ফ্ল্যাগশিপ উপ-প্রকল্প নিয়ে এক উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এলজিইডি সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অরুন কুমার চৌধুরী ও প্রকল্প পরিচালক মোঃ সানিউল হক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এলজিইডি হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ তানজীর উল্লাহ সিদ্দিকী। এ সময় উপকারভোগীরা ছাড়াও এলজিইডির নানাস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ এলাকায় টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। জাপানি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় অর্জন হলো কৃষিকাজে পানির সহজলভ্যতা বৃদ্ধি। বড়ছড়া খালে পানি সংরক্ষণের ফলে কৃষকরা এখন ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষে সেচের পানি ব্যবহার করতে পারছেন। এতে কৃষিকাজে পানির সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শুধু কৃষিই নয়, খালটি স্থানীয় মৎস্যসম্পদের বিকাশেও ভূমিকা রাখছে। খালের পানিতে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে, যা এলাকার জলজ পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের জন্য ইতিবাচক দিক। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গ্রামীণ জনপদে সৃষ্টি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এ ধরনের ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পিতভাবে খালের পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব।
সব মিলিয়ে বড়ছড়া খাল ফ্ল্যাগশিপ উপ-প্রকল্প নবীগঞ্জের পানিউমদা, বরকান্দি ও কুর্শা এলাকার কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৪২৮টি পরিবারের উপকারিতা এবং ৫২৯ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি এ প্রকল্পের সাফল্য ও সম্ভাবনারই প্রতিফলন। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে বড়ছড়া খাল ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
