

নুরুল ইসলাম আসাদ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম ও সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানির অভিযোগকে ঘিরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়াকে প্রত্যাহার করে বরিশালে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই কার্যালয়ের গাড়িচালক রাসেল মৃধাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলী সুজা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানুন।
ভূমি অফিসে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে একের পর এক সংবাদ প্রকাশ এবং সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগের পর এ প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি এবং সরকারি ভূমি-সংক্রান্ত নথিতে অনিয়মের একাধিক অভিযোগ প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, জমির পর্চা সংগ্রহ ও নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হতো। এ ছাড়া ভূমি-সংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও উঠে আসে। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।
অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানমের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিডিও ধারণকারী এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভিডিও মুছে ফেলার চাপ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। ওই ব্যবসায়ী এ ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সুরাইয়া খানম জানিয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হয়েছে এবং তিনি এর জবাব দেবেন। গাড়িচালক রাসেল মৃধা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।
সানজিদার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর উজিরপুর উপজেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বলে ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়। প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে এবং সেবাপ্রত্যাশীদের লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২৫ অক্টোবর দুই কর্মচারীকে বরিশালে সংযুক্ত করা এবং গাড়িচালককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ও অনিয়মের শিকার না হন, সে জন্য অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশংসা জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভূমিসেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
