

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকায় হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা দুই কিশোরের গত এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে পরিবারগুলির মধ্যে। নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী মো. আব্দুস সামাদ (১৩) ও মো. আমির হামজা (১৩)।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় তারা নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না মেলায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, গত ১০ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বানেশ্বর হাফেজিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন এলাকা থেকে তারা নিখোঁজ হয়।
আব্দুস সামাদ পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. আবু বাক্কার। অপরজন হলেন, আমির হামজা (১৩)। তার বাবা মো. আরব উদ্দিন ও মা মোছা. বিলকিস বেগম। তাদের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার তাতারপুর এলাকায়। ছেলের খোঁজে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পাননি পরিবারের সদস্যরা। আমির হামজা ও মো. আব্দুস সামাদ (১৩) বানেশ্বর হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। মো. আব্দুস সামাদ-এর বাবা আবু বক্কার পুঠিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে, আমির হামজার বাবা মো. আরব উদ্দিন গত ১২ অক্টোবর পুঠিয়া থানায় জিডি করেন।
শিক্ষার্থী মো. আমির হামজার পিতা মো. আরব উদ্দিন বলেন, প্রতিদিনের মত গত ১০ অক্টোবর দুপুরে বাড়িতে খেতে বাড়িতে আসে এবং খাওয়া শেষে মাাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আমির হামজা মাদ্রাসায় যাওয়ার পর জানতে পারে যে হুজুরেরা মাথার চুল কেটে মাথা নেড়া করে দিবে এ ভয়ে সে আবার বাড়িতে চলে যায়। পরে তার বাবার বোঝানোর পর সে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে আর মাদ্রাসায় ঢুকে এবং সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ শেষে ক্লাস শুরুর পূর্বে নিখোঁজ হয়ে যায়। এসময় মো. আব্দুস সামাদ নামের শিক্ষার্থীও নিখোঁজ হয়।
বানেশ্বর হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রধান হুমায়ন কবির জানায়, মাদ্রাসার ছাত্র মো. আব্দুস সামাদ-এর অভিভাবক গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ছুটি নিয়ে বাড়িতে যায়। পরের দিন শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় ক্লাস করার কথা ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় দুই শিক্ষার্থী মো. আব্দুস সামাদ (১৩) ও মো. আমির হামজা (১৩) অনুপস্থিত দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে দুই পারিবোরের সাথে কথা বলে জানতে পারেন দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন। দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা পুঠিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদ খান বলেন, নিখোঁজ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুইটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের আবেদন, কোন সহৃদয় ব্যক্তি নিখোঁজ দুই কিশোরের সন্ধান পেলে যেন দ্রুত তাঁদের পরিবার অথবা নিকটবর্তী থানায় খবর দেন। তাঁদের সন্ধান পেতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।
