

রমজান আলী, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমেদ। চাঁদাবাজদের ধরে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পেটানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন সংসদ সদস্য।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে পুরানগড় ইউনিয়নে যাওয়ার পথে কেরানীহাট চত্বরে পৌঁছালে সিএনজি অটোরিকশার চালক ও মালিকেরা তাঁর কাছে চাঁদা আদায় ও মারধরের অভিযোগ তুলে ধরেন। এক চালককে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন সকালে চালক-মালিকেরা মানববন্ধন করেন বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ, কেরানীহাট এলাকায় সিএনজি অটোরিকশার চালকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ১৫ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা চাঁদাবাজি বন্ধ এবং চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
চালক ও মালিকদের অভিযোগের কথা জানতে পেরে সংসদ সদস্য গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় পরিবহনশ্রমিকেরা তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং চাঁদা আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগ শোনার পর সংসদ সদস্য চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, “আজ থেকে কেরানীহাটে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। কেউ চাঁদা নিতে এলে তাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পেটাবেন।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, এলাকায় অন্যায় ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। চাঁদাবাজি ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি সাতকানিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
এ ছাড়া কেরানীহাটসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়েও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন সংসদ সদস্য। কিশোর গ্যাংয়ের নামে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, চাঁদা আদায় ও এ নিয়ে বিরোধের কারণে তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তাঁরা কেরানীহাট এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধ, হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদে গাড়ি চালানোর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
কেরানীহাট সাতকানিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এ এলাকায় সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ফলে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ স্থানীয় চালক-মালিকদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্যের নির্দেশনার পর প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে কেরানীহাট এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধ, পরিবহনশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।
