ঢাকা
logo
প্রকাশিত : October 11, 2026

ফেসবুকে ১৭ দিনের সম্পর্ক, রাজুর ডাকে কক্সবাজার যায় তাজমিন

কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের শিকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) রাজু চৌধুরী (২০) নামে এক যুবকের ডাকে সাড়া দিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিল। রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের সম্পর্কের বয়স ছিল মাত্র ১৭ দিন।

চার দিন ধরে নিখোঁজ ছিল তাজমিন। তবে ঠিক কবে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমে সে পাশের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। সেখান থেকে কুমিল্লায় ফিরে পরে কক্সবাজারে যায়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মাকে জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা আইকনিক এক্সপ্রেস বাস থেকে কুমিল্লায় প্রবেশের মুখে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে নামে তাজমিন।

কক্সবাজারের কক্সেস প্যানারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ জানান, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার পর তাজমিন তার বন্ধু রাজুকে সঙ্গে নিয়ে বাসের টিকিট কাটতে তাদের কাউন্টারে আসে। তখন তারা দুজনকে একজন ছেলে ও একজন মেয়ে হিসেবে মনে রেখেছিলেন। তাদের সাধারণ যাত্রী হিসেবেই বিবেচনা করেছিলেন।

আবদুল্লাহ জানান, ছেলেটি পরদিন বুধবারের জন্য একটি টিকিট কাটে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। রাতে বাসটি হোটেল নূরজাহানের সামনে পৌঁছায়। বাসটি ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে।

তাজমিন হত্যার ঘটনা আলোচনায় আসার পর আবদুল্লাহ বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন এবং বাসের টিকিট কাটতে আসা মেয়েটিকে তাজমিন হিসেবে শনাক্ত করেন। পুলিশ তার কাছে তথ্য জানতে চাইতে পারে—এমন ধারণা থেকে তিনি আগেই বিষয়টি সম্পর্কে প্রস্তুতি নেন। পরে জানতে পারেন, তাজমিনের সঙ্গে আসা যুবকটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া (৩৫)। এরপর ওই যুবক সম্পর্কে আর খোঁজ নেননি তিনি।

তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা তাকে বান্ধবীর বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও তাজমিন কিছু জানায়নি।

মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো অঘটন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করতেন এবং তার চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে জানতে চাইতেন। কিন্তু এত সতর্কতার পরও মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাজমিনের মা যে বান্ধবীকে সন্দেহ করছেন, তার বয়স তাজমিনের চেয়ে বেশি। তবে হত্যাকাণ্ডে ওই বান্ধবী বা তার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে তারা জানান। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমিন কিছুটা অবাধ্য হয়ে উঠেছিল এবং পাপজিসহ মোবাইল গেমে আসক্ত ছিল।

তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন তাজমিনকে পড়িয়েছেন। তার ভাষায়, তাজমিন খুব চঞ্চল স্বভাবের ছিল। মা অসুস্থ হলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখাশোনা করত সে। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে রাতে ফিরতেন। তবে বাবা তাজমিনকে খুব আদর করতেন। ঘরে রাগ হলে তাজমিন হুটহাট বাসা থেকে বের হয়ে যেত।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি একজনই—সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা বাস থেকে পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানের সামনে নামার পর শহরের রেইসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। গ্রেপ্তার সুমন তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে সচেতন নাগরিক কমিটি, কুমিল্লার সাবেক সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান মনে করেন, রাজুর সঙ্গে তাজমিনের সম্পর্ক না হলে হয়তো তাকে কক্সবাজার যেতে হতো না এবং সে মৃত্যুর মতো বিপদ থেকে বেঁচে যেতে পারত।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram