

ফারহান ইসলাম, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উপজেলার ৮০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। কোথাও চলছে প্রতিমায় রং করার কাজ, আবার কোথাও চলছে সাজসজ্জা ও অলংকরণের প্রস্তুতি। শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেব-দেবীর প্রতিমা। তবে কাজের ব্যস্ততা বাড়লেও নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি ও আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিল্পীরা। অন্যদিকে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। দেবী দুর্গার পাশাপাশি কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমা তৈরির কাজও চলছে। কোথাও প্রতিমার গায়ে রং করা হচ্ছে, কোথাও আবার সূক্ষ্ম কারুকাজ ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করছেন শিল্পীরা।
কারিগর উজ্জ্বল কুমার মালাকার বলেন, আমি ঠাকুরগাঁও থেকে এসেছি প্রতিমা বানাতে। দুর্গাপূজা সামনে রেখে এখন কাজের চাপ অনেক বেশি। সময়মতো প্রতিমা তৈরি করে দিতে হয়। একটি প্রতিমা তৈরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক পরিশ্রম করতে হয়। মাটি দিয়ে কাঠামো তৈরি প্রতিমা শুকানো রং করা এবং সাজসজ্জার প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় খরচ বেশি হচ্ছে। তারপরও সুন্দরভাবে প্রতিমা তৈরির চেষ্টা করছি যাতে পূজারিরা সন্তুষ্ট হন।
কারিগর পুতুল বলেন, প্রতিমা তৈরি আমাদের শিল্প ও জীবিকার অংশ। প্রতিটি প্রতিমার মুখের গড়ন হাত-পা পোশাক ও অলংকারের কাজে বিশেষ যত্ন নিতে হয়। কাজের মধ্যে সামান্য ভুল হলেও প্রতিমার সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় এখন ব্যস্ততা বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা সব প্রস্তুতি ভালোভাবে সম্পন্ন হবে এবং পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে।
পাঁচবিবি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তুহিন রেজা বলেন, এবার পাঁচবিবি উপজেলায় ৮০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, পূজার দিনগুলোতে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
