

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পূর্ব বিরোধের জের ধরে বীরনগর ও মমিসিংঙ্গাহাটির (মধ্য তাহিরপুর) মধ্যে দুই ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। সংঘর্ষে বীরনগর গ্রামের সাথে জয়নগর, দুতমা, লক্ষীপুর গ্রামের লোকজন অংশ নেয়।
বুধবার (০৭ অক্টোবর) দুপুর ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের পুলিশ সার্কেল অফিসের সামনে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের শনির হাওরে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষের সময় মমিসিংঙ্গাহাটির দুটি দোকানে হামলা করা হয় ও একটি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিআরশেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি।পরে পুলিশ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর চেষ্টায় সংঘর্ষ থামলেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত বীরনগর গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে আশিকনুর, আলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ও মাইনুদ্দিনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করে। এছাড়াও মমিসিংঙ্গাহাটি(মধ্য তাহিরপুর) গ্রামের মোঃ হারুন অর রশিদ (৫২), বাকারুল মিয়া (৫০), আজিম মিয়া (২৫), রমজান মিয়া (৩০), আবুল কালামসহ দুই পক্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, আমরা সংঘর্ষের শুরু থেকেই অবস্থান নিয়ে চেষ্টা করেছি সংঘর্ষ থামাতে, কিন্তু এর মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায়, তখন টিআরশেল নিক্ষেপ করা হয়। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
গত এক সপ্তাহ আগে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে বীরজয় লক্ষী দুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ক্রিকেট খেলার বল জালাল মিয়ার অটোরিকশায় পরে। তখন অটোরিকশা চালক চলে গেলেও হাফিজ আলী এসে কথা-কাটাকাটি করে।
এই ঘটনার জের ধরে রবিবার রাতে তাহিরপুর বাজারে একেই বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয় দুতম গ্রামের হান্নানের ছেলে জসিমের সাথে মমিসিংঙ্গাহাটি হাটির হাফিজ মিয়া, নবাব মিয়া, মানিক মিয়াসহ কয়েকজনের সাথে। কথাকাটাকাটির এক প্রর্যায়ে জসিমকে মারধর করা হয়।
একই ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাফিজকে জয়নগর, বীরনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করে। এ নিয়ে এলাকায় দু'পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরপর এশার নামাজের সময় বীরনগর গ্রামের মসজিদে মাইকিং করা হয় যেন বুধবার সকালে গ্রামের সবাই উপস্থিত হয়।পরে দুপুরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
