

নুরুল ইসলাম আসাদ, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে রোগীর চাপ। বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের নির্ধারিত বেডগুলো ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। বেডে জায়গা না হওয়ায় অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে জায়গার সংকট থাকলেও চিকিৎসাসেবা থেকে কাউকে বঞ্চিত না করে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরা।
বুধবার সকালে সরেজমিনে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীর উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি। নির্ধারিত বেডগুলো রোগীতে পূর্ণ থাকায় অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে বিছানা করে রাখা হয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক রোগী পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষ জ্বর, ঠান্ডাজনিত অসুস্থতাসহ নানা সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন। এতে হাসপাতালের নির্ধারিত সক্ষমতার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখনো শীত পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যে রোগীদের মধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত রোগ ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। প্রতিদিন নির্ধারিত বেডের তুলনায় বেশি রোগী আসায় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদেরও বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
রোগীর চাপ বাড়লেও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে কোনো ধরনের শিথিলতা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ভর্তি রোগীদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। নার্সরাও ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সার্বক্ষণিক সেবায় দায়িত্ব পালন করছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “হাসপাতালে এ রকম অনেক রোগী আসছে। আমরা তাদের যথাযথ সেবা দেওয়ার জন্য খুব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে ঠান্ডাজনিত ও জ্বরজনিত রোগীর সংখ্যাই বেশি আসছে। সামনে শীত আসছে, শীতের প্রস্তুতিও চলছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও সীমিত ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে সামনে শীত মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলে রোগীর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় হাসপাতালের বিদ্যমান চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে রোগীদের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে। সীমিত বেড ও বাড়তি রোগীর চাপের মধ্যেও উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবা দেওয়ার এই প্রচেষ্টা স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে।
