

মো: মোকাররম হোসাইন, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাইয়ে আমন ধানের ক্ষেতে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকামাকড় শনাক্ত করতে ‘আলোক ফাঁদ’ ব্যবহার করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। মাঠপর্যায়ে আলোক ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে পোকার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কৃষকদের উপকারী ও ক্ষতিকর পোকা সম্পর্কে ধারণা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নুনুজ বাজারে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা কৃষকদের নিয়ে আলোক ফাঁদ স্থাপন করে এর কার্যকারিতা ও ব্যবহারিক দিক তুলে ধরা হয়। এ সময় ধানখেতে থাকা বিভিন্ন ধরনের উপকারী ও ক্ষতিকর পোকামাকড় সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদয়পুর ইউনিয়নের দায়িত্বশীল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, রুবেল মিয়া ও শিমুল ইসলাম।
কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের জানান, ধানখেতে থাকা সব পোকাই ক্ষতিকর নয়। কিছু পোকা ফসলের জন্য ক্ষতিকর হলেও অনেক পোকা ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে প্রাকৃতিকভাবে ভূমিকা রাখে। তাই পোকা দেখা দিলেই নির্বিচারে কীটনাশক প্রয়োগ না করে আগে পোকার ধরন ও উপস্থিতির মাত্রা শনাক্ত করা জরুরি।
তারা জানান, আলোক ফাঁদের মাধ্যমে পোকার উপস্থিতি সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। এতে একদিকে ফসলকে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো সম্ভব।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ধানখেতের পাশে একটি বাতি জ্বালিয়ে তার নিচে পানি বা কেরোসিন মেশানো পানি রাখা পাত্রের মাধ্যমে সহজেই আলোক ফাঁদ তৈরি করা যায়। রাতে আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন ধরনের পোকা ওই পাত্রে পড়ে। পরে সেগুলো সংগ্রহ করে শনাক্ত করা হয়।
কৃষকদের নিয়মিত ধানখেত পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি অচেনা বা অস্বাভাবিক পোকার উপস্থিতি দেখা দিলে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনুর রশিদ জানান, কালাই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন ব্লকে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ধানখেতে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণের তথ্যের ভিত্তিতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
