

অতুল পাল, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: বাউফলের বগা বাজারের মুদি-মনোহারি ব্যবসায়ী ও বাউফল রক্ষাচন্ডী কালী বাড়ি মন্দিরের সহ-সভাপতি সমীর বণিক (৩৭) গত ১৩ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে তার সর্বশেষ অবস্থান সাতক্ষীরায় সনাক্ত হলেও পরে আর কোনো লোকেশন পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে তার পরিবার ও স্বজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বগা ফেরিঘাট থেকে ‘দশমিনা ট্রাভেলস’ নামের একটি বাসে ওঠেন সমীর বণিক। এরপর থেকে ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও তিনি বাড়ি ফেরেননি এবং এখনো পর্যন্ত তার কোন সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় তার ভাই সঞ্জিব বণিক গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন (জিডি নম্বর ১১৬০)।
সঞ্জিব বণিক বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২ টার দিকে আমার বোন পূজাকে মোবাইল ফোনে একটি ম্যাসেজ দেয়। সে ম্যাসেজে লিখেন “কিরে ঘুমাইছো”? এর পরদিন বিকালেও তার সঙ্গে আমার বোনের কথা হয়। তখনও তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ফোন বন্ধ পাওয়ার পর প্রযুক্তিগত সহায়তায় ভাইয়ের মোবাইল ট্র্যাক করা হলে সর্বশেষ লোকেশন সাতক্ষীরা দেখায়। এরপর থেকে ট্র্যাকিংয়ে তার কোনো লোকেশন পাওয়া যাচ্ছে না। ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে এবং পরের দিন বিকেলে কথা বলার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। তাহলে হঠাৎ তার লোকেশন কীভাবে সাতক্ষীরা দেখায়, তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।
সঞ্জিব বণিক আরো জানান, আমার ভাই ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানে সমীরের প্রায় ৫ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া ছিল বলে শুনেছি। ওই টাকা নিয়ে কোন দ্বন্দ্বের কারণে আমার ভাইকে গুম করা হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন সঞ্জিব বণিক।
অপরদিকে নিখোঁজ ব্যবসায়ী সমীর বণিকের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান লোকনাথ ভান্ডারের কর্মচারী কামরুল ইসলাম জানান, গাড়িতে ওঠার আগে আমার মহাজন (সমীর বণিক) জনৈক এক ব্যক্তির সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। তিনি ওই ব্যক্তিকে বলেন, “আপনি ওইখানে থাইকেন- আমি আসতেছি”। পরিবারের প্রশ্ন তাহলে ওই ব্যক্তিটি কে ছিলেন সেটাও জানা দরকার। এদিকে সমীর বণিকের নিখোঁজের ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
বাউফল সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কালী বাড়ি ও বাউফল রক্ষাচন্ডী কালী বাড়ি মন্দিরের সভাপতি জীবন কৃষ্ণ সাহা বলেন, সমীর বণিকের নিখোঁজের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং রক্ষাচন্ডী কালী মন্দিরের সহ-সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। ১৩ দিন ধরে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তার পরিবার যেমন উদ্বিগ্ন, তেমনি আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
বাউফল পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সনজিত সাহা ও সাধারণ সম্পাদক অতুল পাল জানান, বিষয়টি উদ্বেগের এবং ভয়েরও। খুব শীঘ্রই দুর্গাপূজা শুরু হবে। এর আগে সমীর বণিকের নিখোঁজের সংবাদটি নিঃসন্দেহে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের কাছে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে সমীর বণিকের সাথে বাউফল রক্ষাচন্ডী কালী বাড়ি সংলগ্ন এক বাড়ির পটুয়াখালীতে অনার্স পড়ুয়া এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয়ভাবে জনশ্রুতি রয়েছে। জনশ্রুতির প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন ওই মেয়ে এবং মেয়ের পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে জানা গেছে।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে আইণশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় সব আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
