

সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জে) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরে সিলেট–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ দেড় মাস বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় সড়কজুড়ে ধুলাবালি ও মাটি-বালুর কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এলাকা থেকে উজানীগাঁও শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ২৫২ টাকা। কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরপর সড়ক সম্প্রসারণ, মাটি ভরাট ও ঢালাইসহ বিভিন্ন কাজ এগিয়ে চলছিল। তবে ভিট বালুর সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কাজের গতি কমে যায়। একপর্যায়ে প্রায় দেড় মাস নির্মাণকাজ বন্ধ থাকে। এতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি ও বালু জমে থাকায় যানবাহন চলাচলের সময় ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
নির্মাণকাজ চলাকালে শান্তিগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন স্থানে ধুলাবালির কারণে দোকানপাট ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শুষ্ক আবহাওয়ায় যানবাহন চলাচলের সময় সড়কের মাটি ও বালু উড়ে আশপাশের দোকানে গিয়ে পড়ছে। এতে ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রী পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পথচারীদেরও ধুলাবালির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নিয়মিত পানি ছিটিয়ে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা জানানো হয়। তবে প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চার লেনের কাজ শেষ হলে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে। টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফায়ার সার্ভিস ও বিটাকসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি যানবাহন চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সাকিব আল হাসান বলেন, চাহিদা অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ না পাওয়া এবং বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রায় দেড় মাস কাজ বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার থেকে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়মিত পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কারণে কাজ বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার থেকে আবার কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় তাঁরা আশাবাদী। তবে শুধু কাজ শুরু করলেই হবে না, ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এতে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।
