

মানিক ভূঁইয়া, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী জেলা শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের উদ্যোগে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর ফের ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে পথচারীদের চলাচলে আবারও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঘন্টাব্যাপী নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের নেতৃত্বে এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অভিযানকালে শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান, ভাসমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসা না করার জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
প্রশাসনের এই অভিযানে কিছু এলাকায় ফুটপাত সাময়িকভাবে দখলমুক্ত হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পরেই বিভিন্ন স্থানে আবারও দোকান বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত হকার, দোকানদার ও অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। অনেক জায়গায় দোকানের মালামাল ফুটপাতের ওপর রাখা হচ্ছে। কোথাও আবার ফুটপাতের ওপর স্থায়ী বা অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে।
ব্যস্ত সড়কে পথচারীদের এভাবে চলাচলের কারণে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পথচারীরা জানান, ফুটপাত মূলত পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। মাঝে মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, জনসাধারণের চলাচলের জায়গা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দখলে রাখার সুযোগ নেই। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয় এবং নগর ব্যবস্থাপনাও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেসব ব্যবসায়ী ও দখলদারকে সতর্ক করা হয়েছে,তারা যদি পুনরায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু উচ্ছেদ নয়, ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় ফুটপাত দখল না হয় সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হবে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন.এম নাসিরুদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব উদ্দিন আলো, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহাদৎ হোসেন, জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
