ঢাকা
logo
প্রকাশিত : September 28, 2026

চিলমারীতে পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চিলমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম)-এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সকল নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় অর্থ জমাদানের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও মিলেনি বিদ্যুৎ সংযোগ। এমনকি ভুক্তভোগীদের কাছে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের দাবি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অফিসটির ডিজিএম এর নানা অনিয়ম-দুনীতির প্রতিবাদে প্রেসক্লাব সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। সোমবার দুপুরে উপজেলার চর হরিপুর এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো.ইউনুছ আলী।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চর হরিপুর এলাকার ১৪টি পরিবার পল্লী বিদ্যুতের ডিপোজিট লাইনের মাধ্যমে সংযোগ নিতে প্রায় এক বছর আগে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। লাইন নির্মাণ বাবদ ৫৪ হাজার টাকা, মিটার জামানত বাবদ বাণিজ্যিক মিটারের জন্য ১১টি পরিবার ১১ হাজার ১১০ টাকা ও আবাসিক ৩টি পরিবার ১ হাজার ৫৯০ টাকাসহ মোট ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা জমা দেন তারা। প্রায় তিন মাস আগে তাদের নামে মিটার আসলেও অজানা কারণে সংযোগগুলি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সংযোগের বিষয়ে বারবার চিলমারী জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো ফল মেলেনি। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ও এজিএমের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। উপরন্তু সংযোগের বিষয়ে জানতে গেলে ডিজিএম ভুক্তভোগীদের একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বলেন। কিন্তু কেন ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হবে, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

সংবাদ সম্মেলনে মো.ইউনুছ আলী আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ৩ মাস আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁর রাইচ মিলের সিঙ্গেল ফেইজ মিটারটি নষ্ট হয়। দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরির পর তাঁকে তিন ফেজ সংযোগের জন্য আবেদন করতে বলা হলে দেড় মাস আগে তিনি আবেদন করেন। কিন্তু এখনো সংযোগ না দেওয়ায় তাঁর মিলের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অথচ একই এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য একটি রাইচ মিলকে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে ডিজিএম উল্টো আইনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

ভুক্তভোগী ইউনুছ আলী বলেন, নিয়ম মেনে টাকা জমা দেওয়ার পরও এক বছর ধরে বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। মিটার এসে পড়ে থাকলেও কেন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না, তার স্পষ্ট জবাব চাই। আমরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এর সুষ্ঠু প্রতিকার ও দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, মো.কামরুজ্জামান, সাইফুল ইসলাম, মো.রেজাউল ইসলাম, মো.ইদ্রিস আলী প্রমুখ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির চিলমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো.ফকরুদ্দীন বলেন, ওই এলাকায় সংযোগকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি, এ কারণে সংযোগ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, রাইচ মিলে অতিরিক্ত লোডের কারণে বারবার মিটার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ কারণে ওই মিল মালিককে থ্রিফেইজ সংযোগের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছিল, তিনি আবেদন করেছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো.শামিম পারভেজ বলেন, কেন সংযোগ দেয়া হচ্ছে না বিষয়টি কথা বলে দেখতেছি।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram