

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব। পূজার এই দিনগুলোতে মাটির অবয়বে রূপ দেওয়া হচ্ছে এক বহুকালের পৌরাণিক কাহিনীকে।
সনাতন ধর্মশাস্ত্র ও পুরাণ অনুসারে, মহিষাসুর নামের এক পরাক্রমশালী অসুর যখন স্বর্গের দেবতাদের পরাস্ত করে স্বর্গরাজ্য দখল করে নেয়, তখন দেবতাদের আরাধনায় স্বয়ং ব্রহ্ম, বিষ্ণু ও মহেশশ্বরের সম্মিলিত তেজ থেকে আবির্ভূত হন আদ্যাশক্তি দেবী দুর্গা। দশহাতে দেবপ্রদত্ত বিভিন্ন প্রহারণ (অস্ত্র) নিয়ে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে আসুরিক শক্তির হাত থেকে রক্ষা করেন এবং শুভ শক্তির জয় প্রতিষ্ঠা করেন।
এছাড়া রামায়ণের পৌরাণিক কাহিনী মতে, ত্রেতাযুগে শ্রী রামচন্দ্র রাবণ বধের উদ্দেশ্যে বসন্তকালের প্রথা ভেঙে শরৎকালে দেবীর অকালবোধন করেছিলেন এবং ১০৮টি নীল পদ্ম দিয়ে পূজা করেছিলেন। সেই থেকে শরৎকালের এই শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন সংস্কৃতিতে অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের এক মহোৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
পৌরাণিক এই বিশ্বাস ও ঐতিহ্য ধারণ করেই চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ চালাচ্ছেন কারিগররা। নিপুণ ছোঁয়ায় কাদা-মাটি, খড়, বাঁশ আর কাঠের মাধ্যমে দেবীর সেই দশভূজা রূপ এবং তাঁর চার সন্তান—কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। বেশিরভাগ মণ্ডপেই মাটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এরপর শুরু হবে রঙের সূক্ষ্ম প্রলেপ ও নান্দনিক রূপসজ্জার কাজ।
উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের প্রতিমা শিল্পী কানাই মজুমদার এবং কৃষ্ণনগর গ্রামের সাগর বিশ্বাস জানান, তাঁরা দুজনে মিলে আলাদাভাবে ২১টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে এনেছেন। কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম এবং তুলনামূলক কম পারিশ্রমিক সত্ত্বেও কাজের প্রতি আগ্রহ ও ভক্তিতে তাঁদের কোনো কমতি নেই। প্রতি বছরের মতো এবারও ঐতিহ্য ধরে রেখে নতুনত্বের ছোঁয়া দিতে দিন-রাত এক করে খাটছেন তারা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের চিতলমারী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক (অবসরপ্রাপ্ত) সহকারী অধ্যাপক জহর লাল সরকার জানান, এ বছর চিতলমারীতে ১৩৭টি শারদীয় দুর্গাপূজা ও ১০টি বাসন্তী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তার জন্য মণ্ডপগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তার পূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
