

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধে আবারও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল বাজারের দক্ষিণে খামার এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। হঠাৎ বিকট শব্দে ভাঙন শুরু হলে নদের তীরবর্তী স্থানীয়রা ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টায় নির্ঘুম রাত্রি যাপনের কথা জানা যায়।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে চিলমারীকে রক্ষার জন্য প্রায় সাড়ে ৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে নদের ডানতীর ব্লক ডাম্পিং ও পিচিং এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। ওই প্রকল্পে কয়েক দফায় ভাঙন দেখা দিলে জরুরী ভিত্তিতে তা দায়সাড়াভাবে মেরামত করা হয়েছিল। গত দুই মাস আগে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকোল সড়কটারী এলাকায় ৪টি পৃথক স্থানে ভাঙন দেখা দিলে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে তা রক্ষার চেষ্টা করা হয়।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কাঁচকোল বাজারের দক্ষিণে খামার এলাকায় প্রায় ৪০ মিটার এলাকায় আবারো ভাঙন শুরু হয়। নদের তীব্র ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে তীরবর্তী স্থানীয়রা ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে নির্ঘুম রাত্রি যাপন করেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রাম এর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাণীগঞ্জ কাঁচকোল দক্ষিণ খামার এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্প বাধের প্রায় ৪০ মিটার জায়গার ব্লক ধসে রাস্তা ভেঙে গেছে। বাঁধটির প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৮টি স্থানে ধসে যাওয়াসহ হুমকির মুখে রয়েছে ওই অঞ্চলটি বলে এলাকাবাসী জানান। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত্রি যাপন করছেন নদী তীরবর্তী মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় ধসের ঘটনা ঘটলেও তা স্থায়ী সমাধানের কোন উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আতঙ্কে থাকতে হয় ভাঙন কবলিত মানুষদের। চলতি মৌসুমে চার দফায় অন্তত ৬০০ মিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জরুরী মেরামতের জন্য দেয়া বরাদ্দে নিম্নমানের জিও ব্যাগ প্রদান, প্যাকিংয়ে অনিয়মসহ বিভিন্ন অনিয়মের কথাও জানান তারা।
স্থানীয় গোলাজার হোসেন, মাহবুবুর রহমান, মানিক মিয়াসহ অনেকে জানান, বাঁধ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল, গতকাল রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে বিকট শব্দে প্রায় ৪০ মিটার অংশের ব্লক ভেঙে নদী গর্ভে চলে যায়। চোখের সামনে বাপ-দাদার ভিটেমাটি আর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী প্রতিকার চাই।
আলতাফোন মিয়া, শাহিন মিয়াসহ অনেকে বলেন, ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর আমরা নদীভাঙন থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিন ধরে বারবার ধসের ঘটনায় আমরা আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারেনি। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা সর্বস্ব হারিয়ে আবারও ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়ব বলে জানান তারা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.রাকিবুল হাসান বলেন, সেখানে প্রায় ৬০০ মিটার অংশে চারটি স্থানে কোথাও ফাটল আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় মেরামত কাজের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলে কাজ শুরু করা হবে। আপাতত বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
