ঢাকা
logo
প্রকাশিত : September 22, 2026

এক্স-রে ফিল্ম নেই, জনবলও সঙ্কটে—পুঠিয়া হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: এক্স-রে ফিল্ম নেই। ফলে প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে এক্স-রে পরীক্ষা। অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে, নেই চালক। রোগীদের খাবার রান্নার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীও নেই। এর সঙ্গে প্রায় ৪০টি পদে জনবল সঙ্কট। সব মিলিয়ে কার্যত সমস্যার ভারে জর্জরিত রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

দূর-দূরান্ত থেকে সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ আবার বাধ্য হয়ে ছুটছেন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের উপর বাড়ছে অতিরিক্ত খরচের বোঝা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা যায়। এক্স-রে করানোর জন্য গেলে সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালের এক্স-রে ফিল্ম অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে হাসপাতাল থেকে এক্স-রে পরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় ৪০টি পদে জনবল নেই। অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও চালকের অভাবে সেটির পরিষেবা নিয়েও সমস্যা রয়েছে। রোগীদের জন্য রান্নার কাজে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী না থাকায় খাবার ব্যবস্থাপনাতেও তৈরি হয়েছে জটিলতা। হাসপাতালের খাবারের মান নিয়েও রোগী ও তাঁদের স্বজনদের একাংশের অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শুধু পুঠিয়া নয়, আশপাশের বহু এলাকার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা। বিশেষ করে আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষ সরকারি এই হাসপাতালের উপরই নির্ভর করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিকাঠামোগত পরিষেবা না মেলায় তাঁদের অনেককেই অতিরিক্ত সময় ও অর্থ খরচ করে অন্যত্র যেতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের এই সমস্যাগুলি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক সমস্যা সামনে এলেও তার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ফলে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসান আলী মোল্লা বলেন, ‘‘এসব সমস্যা আছে। আমরা চাহিদাপত্র দিয়েছি। দেখা যাক সমস্যাগুলি কবে সমাধান হয়।’’

এক্স-রে ফিল্মের সঙ্কট নিয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম বলেন, ‘‘এক্স-রে ফিল্ম শেষ হয়েছে, বিষয়টি জানি। কিন্তু আগামী ডিসেম্বরের আগে টেন্ডার না হলে এক্স-রে ফিল্ম দেওয়া সম্ভব নয়।’’

তবে কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যে প্রশ্ন উঠছে—একটি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টানা এক মাস এক্স-রে পরিষেবা বন্ধ থাকলে রোগীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে না কেন? বিশেষ করে দরিদ্র রোগীদের ক্ষেত্রে এই পরিষেবা বন্ধ থাকার সরাসরি প্রভাব পড়ছে চিকিৎসার খরচে।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, জনবল সঙ্কট, এক্স-রে পরিষেবা, অ্যাম্বুল্যান্স এবং রোগীদের খাবার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। শুধু চাহিদাপত্র পাঠিয়ে দায় শেষ না করে সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান করা দরকার। না হলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram