

সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। কাজ শুরু হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আরও কয়েক মাস পরেই শেষ হওয়ার কথা। অথচ শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণাধীন অংশে এখন অনেক জায়গায় নেই কাজের দৃশ্যমান গতি। কোথাও মাটি খোঁড়া, কোথাও বালুর স্তূপ, আবার কোথাও নির্মাণকাজ থেমে আছে। যানবাহন চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে উড়ছে ধুলার মেঘ।
উন্নত সড়কের আশায় শুরু হওয়া প্রায় দুই কিলোমিটারের ফোর লেন প্রকল্পটি এখন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের জন্য হয়ে উঠেছে দুর্ভোগের কারণ। ধুলায় ঢেকে যাচ্ছে দোকানপাট ও বসতবাড়ি। যানবাহন চলাচলের সময় দৃষ্টিসীমাও কমে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে। কারণ কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পাওয়া তথ্যেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এলাকা থেকে উজানীগাঁও শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। কাজ পেয়েছে এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। ২০২৫ সালের জুনে চুক্তি সম্পাদনের পর একই বছরের অক্টোবর থেকে কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা ২০২৭ সালের জুনে। কাজ শুরুর কয়েক মাস পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। এরপর মে মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার প্রায় ৫০ শতাংশ ঢালাই ও মাটির কাজ শেষ হওয়ার কথা জানান।
তবে বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রকৌশলী সাবিক আল হাসান বলছেন, প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রকল্পের অগ্রগতির হিসাবে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এটি কাজের ধরন ও পরিমাপ পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকল্পের প্রকৃত অগ্রগতি কত শতাংশ—তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, পরিমাপ বই ও বিলের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রকৌশলী সাবিক আল হাসানের ভাষ্য, রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিট বালি না পাওয়ায় বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ শেষে হয়েছে। এখন রাস্তা সম্প্রসারণে ভিট বালি না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। আশা করছি ভিট বালি পেয়ে আমাদের কাজ পুরোদমে শুরু হবে।
এর আগে কাজের ধীরগতির পেছনে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ, গাছ কাটায় বিলম্ব এবং বৃষ্টির বিষয়টিও সামনে এসেছিল। এদিকে বর্তমানে নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন অংশে পড়ে থাকা বালু ও মাটি শুকিয়ে গেলে যানবাহনের চাকার সঙ্গে তা বাতাসে উড়ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সড়কের আশপাশে তৈরি হচ্ছে ধুলার আস্তরণ। উপজেলা পরিষদ ভবন, এফআইবিডি অফিস, শান্তিগঞ্জ পয়েন্টসহ আশপাশের দোকানপাট ও বসতবাড়িতে ধুলার প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একাধিক ব্যবসায়ী জানান, যানবাহন অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে দোকানের সামনে ধুলার মেঘ তৈরি হয়। পণ্যসামগ্রীতে ধুলা জমে যাওয়ায় বারবার পরিষ্কার করতে হচ্ছে।
সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ বলেন, “উন্নয়ন কাজ আমরা চাই। কিন্তু কাজ বন্ধ রেখে রাস্তার বালু—মাটি এভাবে ফেলে রাখলে আমাদের ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অন্তত নিয়মিত পানি ছিটানো হলে ধুলার সমস্যা অনেকটা কম হতো।
সিএনজি অটোরিকশাচালক রিপন মিয়া বলেন, গাড়ি গেলেই ধুলায় চারপাশ ঢেকে যায়। সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালানো এবং পথচারীদের চলাচল—দুটিই কষ্টকর। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষকে নিয়ে চলাচলের সময় বেশি সমস্যা হয়।
নির্মাণাধীন সড়কের ধুলাবালিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা—এমন দাবি স্থানীয়দের। শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতকারী রোগী ও স্বজনদেরও ধুলার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চললেও ধুলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়।
ধুলা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রকৌশলী সাবিক আল হাসান বলেন, রাস্তায় পানি ছিটানোর জন্য ট্রাক রয়েছে। নিয়মিত পানি ছিটানোর জন্য বলে দেওয়া আছে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের ফোর লেনের কাজ পুরোদমে আবারও শুরু হবে। ধুলাবালি যাতে বাতাসে না উড়ে, সে জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত রাস্তায় পানি ছিটানোর জন্য বলা হয়েছে।
